০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ভয়াবহ বন্যায় নেপালের পুনর্গঠনে লাগতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার নাইজারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সেনাদের হামলার চেষ্টা, রাজধানীতে সংঘর্ষ বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: দেশ এবং জাতি কি পেল ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কাঁদলেন মিয়াঁদাদ, বললেন—‘সব ভুলে এবার তাঁকে ছেড়ে দিন’ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি কি আমেরিকাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে? ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে মার্কিন সেনা পরিবারগুলোর জীবন যেন আবেগের রোলার কোস্টার ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার টিকার সাফল্য: আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখনই গতি বাড়াতে হবে চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় সংকট শনাক্তকরণ সরঞ্জামে সংসদ ভবনের কাছে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপের অনীহা, ট্রাম্পের আহ্বানেও সেনা পাঠাতে নারাজ মিত্ররা

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইউরোপীয় দেশগুলো আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে তারা স্পষ্ট অনীহা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইউরোপকে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানায়, তখনই সামনে আসে নানা কূটনৈতিক ও সামরিক জটিলতা।

যুদ্ধ শুরুর আগেই ছিল দূরত্ব

ইউরোপীয় নেতাদের বড় অভিযোগ, এই যুদ্ধ শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হঠাৎ করেই হামলা শুরু করে, ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের বাইরে রাখা হয়েছে বলে মনে করছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধ নিয়ে কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই সামরিকভাবে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের কাছ থেকে শুধু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। জার্মানি দ্রুত সম্মতি দিলেও ব্রিটেন সীমিতভাবে সহায়তা দেয়, আর স্পেন সরাসরি না বলে দেয়। পরবর্তীতে যখন পরিস্থিতি জটিল হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সহায়তা চায়, যা ইউরোপ সহজে গ্রহণ করেনি।

ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপ বলছে, এই যুদ্ধ ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। ন্যাটো মূলত প্রতিরক্ষামূলক জোট, যা কোনো সদস্য দেশের ওপর সরাসরি হামলা হলে সক্রিয় হয়।

ইউরোপীয় নেতাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসী বা আগাম হামলায় ন্যাটোর ভূমিকা নেই। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বান জোটের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সামরিক বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হলেও সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি ছোট নৌযান দিয়েও বড় তেলবাহী জাহাজ আক্রমণ করা সম্ভব, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ নয়।

ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, তাদের নৌবাহিনী যুক্ত হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

ইরানের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপ দ্রুত এই সংকট কমাতে চায়।

তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে চাপ বজায় থাকলে সেটিই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করতে পারে। যদি ইউরোপ এই চাপ কমিয়ে দেয়, তাহলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসতে পারে, যা নতুন সংকট তৈরি করবে।

চাপের রাজনীতিতে আটকে কূটনীতি

সব মিলিয়ে, ইউরোপ একদিকে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি অংশ নিতে চায় না। অর্থনৈতিক চাপ এবং জনমতের পরিবর্তনকে তারা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধ থেকে সরে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়াবহ বন্যায় নেপালের পুনর্গঠনে লাগতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপের অনীহা, ট্রাম্পের আহ্বানেও সেনা পাঠাতে নারাজ মিত্ররা

১১:১৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইউরোপীয় দেশগুলো আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে তারা স্পষ্ট অনীহা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইউরোপকে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানায়, তখনই সামনে আসে নানা কূটনৈতিক ও সামরিক জটিলতা।

যুদ্ধ শুরুর আগেই ছিল দূরত্ব

ইউরোপীয় নেতাদের বড় অভিযোগ, এই যুদ্ধ শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হঠাৎ করেই হামলা শুরু করে, ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের বাইরে রাখা হয়েছে বলে মনে করছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধ নিয়ে কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই সামরিকভাবে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের কাছ থেকে শুধু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। জার্মানি দ্রুত সম্মতি দিলেও ব্রিটেন সীমিতভাবে সহায়তা দেয়, আর স্পেন সরাসরি না বলে দেয়। পরবর্তীতে যখন পরিস্থিতি জটিল হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সহায়তা চায়, যা ইউরোপ সহজে গ্রহণ করেনি।

ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপ বলছে, এই যুদ্ধ ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। ন্যাটো মূলত প্রতিরক্ষামূলক জোট, যা কোনো সদস্য দেশের ওপর সরাসরি হামলা হলে সক্রিয় হয়।

ইউরোপীয় নেতাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসী বা আগাম হামলায় ন্যাটোর ভূমিকা নেই। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বান জোটের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সামরিক বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হলেও সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি ছোট নৌযান দিয়েও বড় তেলবাহী জাহাজ আক্রমণ করা সম্ভব, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ নয়।

ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, তাদের নৌবাহিনী যুক্ত হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব বড় পরিবর্তন আনতে পারবে না।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

ইরানের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপ দ্রুত এই সংকট কমাতে চায়।

তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে চাপ বজায় থাকলে সেটিই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করতে পারে। যদি ইউরোপ এই চাপ কমিয়ে দেয়, তাহলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসতে পারে, যা নতুন সংকট তৈরি করবে।

চাপের রাজনীতিতে আটকে কূটনীতি

সব মিলিয়ে, ইউরোপ একদিকে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি অংশ নিতে চায় না। অর্থনৈতিক চাপ এবং জনমতের পরিবর্তনকে তারা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধ থেকে সরে আসে।