স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছর যারা সরকারি সহায়তাভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিলেন, তাদের প্রায় প্রতি দশ জনে একজন এখন আর কোনো বিমার আওতায় নেই। ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
ভর্তুকি বন্ধ, খরচ বেড়ে বিপাকে মানুষ
বছরের শুরুতে বাড়তি সরকারি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিমা খরচ বেড়ে যায়। এতে করে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিমা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা এখনো বিমার আওতায় আছেন, তাদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। সহ-পরিশোধ, বীমা ভাগ এবং কর্তনযোগ্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, সারা বছর নতুন প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে তারা অনিশ্চিত। ফলে সামনে আরও মানুষ বিমার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জীবনের প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে চিকিৎসা
স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে গিয়ে বহু মানুষ খাদ্য, পোশাক এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসে খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন। বাড়তি চাপের কারণে জীবনযাত্রার মানও কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিমা ছাড়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
ব্যক্তিগত সংকটের বাস্তব চিত্র
ফ্লোরিডার এক বাসিন্দা জানান, মাসে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হওয়ায় তিনি আর বিমা চালিয়ে যেতে পারেননি। আগে ভর্তুকির কারণে খরচ কম ছিল, কিন্তু এখন তা তার বাড়ির ঋণের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে ওষুধ সংগ্রহ করছেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে
এই পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে। এক পক্ষ ভর্তুকি নবায়ন না করাকে দায়ী করছে, অন্য পক্ষ পুরো ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলছে। আগামী নির্বাচনে বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমা ব্যবস্থায় নতুন ঝুঁকি
যখন সুস্থ ও তরুণ মানুষ বিমা ছেড়ে দেন, তখন অসুস্থ ও ব্যয়বহুল রোগীদের সংখ্যা বাড়ে। এতে করে পুরো বিমা ব্যবস্থার খরচ আরও বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে বড় একটি প্রতিষ্ঠান এই বাজার থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নিবন্ধন কমছে, সংকট গভীর হচ্ছে
নতুন বছরে বিমা নেওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এটি প্রমাণ করে যে ক্রমবর্ধমান খরচ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ধীরে ধীরে এক বড় আর্থিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।
Sarakhon Report 


















