মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। নিম্ন-উড়ন্ত যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের নৌ ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমুদ্রপথ খুলতে বহুমুখী সামরিক অভিযান
মার্কিন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অভিযান ধাপে ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা, সমুদ্রের মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যেগুলোর কারণে মার্চের শুরু থেকেই এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ইতোমধ্যে ইরানের একাধিক নৌযান ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর ওপরও আঘাত হানা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানের পাল্টা কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
তবে হামলার পরও ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। দেশটির কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ মাইন, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোপন ঘাঁটিতে লুকানো শত শত নৌযান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি নিরাপদ করতে আরও সময় লাগবে এবং সব ঝুঁকি কখনও পুরোপুরি দূর হবে না।
ইরান ইতোমধ্যে প্রণালী দিয়ে নির্দিষ্ট জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং টোল আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
তেলের বাজারে তীব্র চাপ
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায় এবং একসময় ১১৯ ডলার ছুঁয়েও পরে কিছুটা কমে আসে।
সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল মেরিন ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে, যারা প্রয়োজনে উপকূলবর্তী দ্বীপ দখল করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















