সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবারের ঈদ: কৃতজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও আত্মপরিচয়ের অনুভূতি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৬ সালের ঈদ উদযাপন অনেক বাসিন্দার কাছে আগের তুলনায় ভিন্ন এবং বেশি অর্থবহ হয়ে উঠেছে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে এবার অনেকেই বেছে নিয়েছেন শান্ত, ব্যক্তিগত ও ভাবনামূলক উদযাপন। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে আত্মবিশ্লেষণ, ধৈর্য, এবং এই দেশকে দ্বিতীয় আবাস হিসেবে পাওয়ার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা।
অনেক কমিউনিটিতে বড় সমাবেশের পরিবর্তে ছোট পরিসরে পরিবারকেন্দ্রিক সময় কাটানোই গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক বন্ধন এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশই এবারের ঈদের মূল বিষয়।
প্রথম ঈদের আনন্দ ও পারিবারিক মুহূর্ত
দুবাই ও নর্দান এমিরেটসের ফিলিপাইন বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আসিয়াহ ভ্যাঙ্গি মনজারডিনের কাছে এবারের ঈদ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন। তার আট মাস বয়সী নাতির এটি প্রথম ঈদ হওয়ায় আনন্দ আরও বেড়েছে।
তিনি জানান, বড় আয়োজনের পরিবর্তে তারা সময় কাটাচ্ছেন একসঙ্গে, করছেন আত্মসমালোচনা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কঠিন সময়ে নিরাপদে থাকার জন্য তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের জন্য নিরাপত্তা ও স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, জীবনের ছোট ছোট আনন্দ, সুস্বাস্থ্য এবং প্রিয়জনদের মূল্যায়ন করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ঈদ আগের মতো জমকালো নয়, তবে এটি এখন বেশি অর্থবহ—প্রার্থনা, ভাবনা ও কৃতজ্ঞতায় ভরপুর।
প্রবাসে নতুন পরিবার ও ঐতিহ্য
প্রবাসীদের জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়, বরং নতুন পরিবেশে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা। দুবাইয়ের একটি হোটেলের অতিথি সেবা সহকারী পিয়া বেভারলিন সিলভেরন জানান, তিনি ঈদের দিন নামাজ দিয়ে শুরু করেন এবং শৈশবের প্রিয় ঐতিহ্যগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেন, যেমন প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছা জানানো এবং একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করা।
তিনি বলেন, যদিও তিনি নিজের দেশ থেকে দূরে, তবুও বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে তিনি তার দ্বিতীয় পরিবার খুঁজে পেয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তিনি এমন একটি দেশ হিসেবে দেখেন যেখানে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ একত্রে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই দেশ তাকে পেশাগত ও আত্মিকভাবে উন্নতি করার সুযোগ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
এ বছর তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, এই সতর্কতা বরং আরও আশীর্বাদ বয়ে আনে, কারণ মানুষ একত্রে ভালো কাজ করতে পারে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
“সবাই এখানে আমিরাতি”—একতার বার্তা
ইসলামিক ইনফরমেশন সেন্টারের প্রিচার জন মাকুইরান মনে করেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, বরং দেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এবারের ঈদকে বিশেষ করে তুলেছে ঘরের ভেতরে ঈদের নামাজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত, যা সরকারের মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রমাণ। এর ফলে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং কমিউনিটির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও প্রবাসী—সবাই একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের নেতৃত্বের এই বার্তা—“সবাই আমিরাতি”—একতা ও অন্তর্ভুক্তির শক্তিশালী উদাহরণ।
ভিন্ন হলেও আরও অর্থবহ এক ঈদ
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এবারের ঈদ কিছুটা ভিন্ন অনুভূত হতে পারে। তবে অনেকের কাছেই এটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত অনেকের জন্য তাদের দ্বিতীয় আবাসকে সম্মান জানানো এখন ঈদেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে। এটি মনে করিয়ে দেয়, নিজ দেশ থেকে দূরে থাকলেও তারা এমন একটি দেশের অংশ, যা তাদের নিরাপত্তা, শান্তি এবং সম্ভাবনার সুযোগ প্রদান করে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















