পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভোটার তালিকার একটি বড় অংশের ‘বিচারাধীন’ অবস্থান। প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮.৫৭ শতাংশ। এই তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
প্রার্থীরাও অনিশ্চয়তায়
রাজ্যের বিভিন্ন আসনে লড়তে নামা প্রার্থীদের মধ্যেও একাধিক নাম রয়েছে এই ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। কেউ বহুবারের বিধায়ক, কেউ বর্তমান জনপ্রতিনিধি, আবার কেউ নতুন প্রার্থী—সবাই একই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
একজন প্রার্থী জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের কারণে তার নাম তালিকায় উঠেছে। আবার অন্য একজনের অভিযোগ, পরিবারের অন্য কারও নাম না থাকলেও একমাত্র তার নামই কেন বিচারাধীন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এই অসঙ্গতি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক দলগুলির ভিন্ন দাবি
শাসক দল দাবি করছে, তাদের বহু প্রার্থী, এমনকি মন্ত্রী পর্যায়ের নেতাদের নামও এই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়া ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং সেটাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবি নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে যেসব প্রার্থী নিজেই ভোটার তালিকায় অনিশ্চয়তায়, তাদের নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সীমান্ত জেলাগুলিতে বেশি প্রভাব
মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে, যা এবার আরও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, সমস্ত বিষয় বিচারাধীন রয়েছে এবং নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, যদি তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে তারা আইনি পথে যাবেন। আদালত-নিযুক্ত বিচারিক কর্মকর্তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং শীঘ্রই সংশোধিত তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে ভোটার এবং প্রার্থী—উভয়েই স্পষ্টতা চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















