ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর ইরান এবার সরাসরি বিশ্বজুড়ে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করছে, যুদ্ধের মধ্যেও তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
যুদ্ধের মাঝেই নতুন হুমকি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেওয়া এক কঠোর বার্তায় জানানো হয়, শত্রুপক্ষের হামলা সত্ত্বেও দেশটির সামরিক সক্ষমতা অটুট রয়েছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয়েছে এবং অস্ত্র ও জ্বালানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, বিমানবাহিনী প্রায় অচল এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও ভেঙে পড়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তারা নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং মজুতেও কোনো সমস্যা নেই। এই বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মুখপাত্র বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে জানানো হয়।
নওরোজের উৎসবেও যুদ্ধের ছায়া
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র সময়ের মধ্যে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানে পালিত হচ্ছে পারস্য নববর্ষ নওরোজ, যা সাধারণত আনন্দ-উৎসবের সময় হলেও এবার তা অনেকটাই ম্লান। এই পরিস্থিতিতে ইরান ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে
এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তেলের সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ছে, যা পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্যান্য দেশেও চাপ সৃষ্টি করছে। ইরানের হামলার সক্ষমতা এখনও সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুদ্ধের শুরুতেই সাবেক সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব সামনে এলেও তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও হামলায় আহত হয়েছেন। ফলে ইরানের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রে কে রয়েছেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরোধের বার্তা
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে দেওয়া বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধকে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, শত্রুরা মনে করেছিল নেতৃত্ব ধ্বংস করলেই সরকার ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















