০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

চীন কি তাইওয়ানে হামলা করবে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যায়নে বদলে গেল চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাইওয়ানে সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটবে—এমন আশঙ্কা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। বরং বেইজিং বলপ্রয়োগ ছাড়াই দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজছে।

হামলার আশঙ্কা কমছে কেন

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কা ঘিরে ওয়াশিংটন ও তাইপেই উভয়ই নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছিল। কিন্তু সর্বশেষ বার্ষিক হুমকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীনা নেতৃত্ব বর্তমানে ২০২৭ সালের মধ্যে আক্রমণের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।

এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যাচ্ছে, চীন ধীরে ও কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে। সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে বেইজিং।

কৌশলগত স্থিতিশীলতার লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সরাসরি সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষই এখন কিছুটা সংযত অবস্থানে রয়েছে।

তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি নেই

তবে এই মূল্যায়ন চীনকে ঝুঁকিমুক্ত বলে ঘোষণা দেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এখনও সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনা ধরে রেখেছে। যদিও সেই সক্ষমতা অর্জনে অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনও অসম ও সম্পূর্ণ নয়।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে বড় আকারের হামলা বা অবতরণ অভিযানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে এমন অভিযান ব্যর্থ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রযুক্তি ও সাইবার হুমকিতে চীন এগিয়ে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় ও স্থায়ী সাইবার হুমকি হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ প্রতিযোগিতায়ও চীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও দ্রুত উন্নতি করছে তারা, যার মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতাও রয়েছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের অবস্থান

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার অঙ্গীকার করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি যুদ্ধের বদলে ধাপে ধাপে প্রভাব বিস্তারই তাদের অগ্রাধিকার বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

চীন কি তাইওয়ানে হামলা করবে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যায়নে বদলে গেল চিত্র

১১:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাইওয়ানে সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটবে—এমন আশঙ্কা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। বরং বেইজিং বলপ্রয়োগ ছাড়াই দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজছে।

হামলার আশঙ্কা কমছে কেন

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই চীন তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কা ঘিরে ওয়াশিংটন ও তাইপেই উভয়ই নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছিল। কিন্তু সর্বশেষ বার্ষিক হুমকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীনা নেতৃত্ব বর্তমানে ২০২৭ সালের মধ্যে আক্রমণের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।

এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যাচ্ছে, চীন ধীরে ও কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে। সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে বেইজিং।

কৌশলগত স্থিতিশীলতার লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সরাসরি সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষই এখন কিছুটা সংযত অবস্থানে রয়েছে।

তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি নেই

তবে এই মূল্যায়ন চীনকে ঝুঁকিমুক্ত বলে ঘোষণা দেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এখনও সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনা ধরে রেখেছে। যদিও সেই সক্ষমতা অর্জনে অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনও অসম ও সম্পূর্ণ নয়।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে বড় আকারের হামলা বা অবতরণ অভিযানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে এমন অভিযান ব্যর্থ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রযুক্তি ও সাইবার হুমকিতে চীন এগিয়ে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় ও স্থায়ী সাইবার হুমকি হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ প্রতিযোগিতায়ও চীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও দ্রুত উন্নতি করছে তারা, যার মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতাও রয়েছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের অবস্থান

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার অঙ্গীকার করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি যুদ্ধের বদলে ধাপে ধাপে প্রভাব বিস্তারই তাদের অগ্রাধিকার বলে মনে করা হচ্ছে।