ইরানকে লক্ষ্য করে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব কংগ্রেসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে, যেখানে দুই দলের আইনপ্রণেতারাই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
যুদ্ধ ব্যয়ের চাপ বাড়ছে
প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ এক কর্মকর্তার মতে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে এবং হাজার হাজার বিমান হামলার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এই অর্থের বড় অংশ যাবে যুদ্ধ পরিচালনা এবং অস্ত্র মজুদ পুনর্গঠনে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুদ্ধ চালাতে অর্থ অপরিহার্য এবং সেনাবাহিনীকে যথাযথভাবে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের সহযোগিতা দরকার। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, চাওয়া অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
সময়সীমাহীন যুদ্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ
যুদ্ধ কতদিন চলবে সে বিষয়ে প্রশাসন স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুধু ইরান নয়, আরও বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতির জন্যই এই অর্থ চাওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে বড় পরিসরে গোলাবারুদ নিশ্চিত করতে।
এই অবস্থায় কংগ্রেসে সংশয় আরও ঘনীভূত হয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেছেন, প্রস্তাবটি পাস হবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত, কারণ বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো সামনে আনা হয়নি।
বিরোধিতা ও রাজনৈতিক চাপ

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়া মানে প্রশাসন নিজেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের মধ্যেও দ্বিধা রয়েছে। কেউ কেউ যুদ্ধের সময়কাল, জ্বালানির দামের প্রভাব এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানতে চাইছেন, এই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে।
যুদ্ধের খরচের বাস্তব চিত্র
প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় দিনের হামলায়ই প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অতীতে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে সর্বোচ্চ সময়ে যে ব্যয় হয়েছিল, বর্তমান মূল্যে তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৭৭ বিলিয়ন ডলার।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব শুধু যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
সামনে কঠিন পথ
প্রস্তাবটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হলে তা কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অনেক আইনপ্রণেতার মতে, এই অর্থ অনুমোদন মানেই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার নীরব সম্মতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















