১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা, নিশ্চিত করল না বেইজিং পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে

হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ: মার্কিন আক্রমণে ধাক্কা, তেলের বাজারে অস্থিরতা

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আক্রমণ আরও জোরদার করেছে। সমুদ্রপথের উপর দিয়ে নিচুতে উড়ে যুদ্ধবিমান ইরানের নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, পাশাপাশি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করা হচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো সীমিত।

প্রণালী পুনরুদ্ধারে বহুস্তর পরিকল্পনা

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র নৌকা, সমুদ্র মাইন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি কমিয়ে আনা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। মার্চের শুরু থেকেই এসব হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে এবং পরে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

US war planes and helicopters kick off battle to reopen Hormuz | The Australian

আকাশ ও সমুদ্রপথে একযোগে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী আক্রমণ বিমান এবং হেলিকপ্টার ইতোমধ্যেই ইরানের দ্রুতগতির নৌকা ধ্বংসে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব নৌকা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানি করে আসছিল। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের পাল্টা সক্ষমতা এখনো অটুট

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ মাইন, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোপন ঘাঁটিতে লুকিয়ে থাকা নৌযান রয়েছে। উপকূল ও দ্বীপজুড়ে গভীর টানেলে এসব অস্ত্র মজুদ থাকায় সম্পূর্ণ হুমকি দূর করতে সময় লাগবে। ফলে নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা দ্রুত সম্ভব নয়।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একসময় ১১৯ ডলার ছুঁয়ে পরে কিছুটা কমে এলেও বাজারে অস্থিরতা এখনো বজায় রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে কেমন প্রভাব পড়তে পারে? | The Business Standard

ইরানের নতুন কৌশল ও ভূরাজনৈতিক চাপ

ইরান সীমিতভাবে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং প্রণালী ব্যবহার করতে টোল আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর উপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আংশিকভাবে পথ খুলে দিলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। অতীতে অনুরূপ সংঘাতে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চলার নজির রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ

হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ: মার্কিন আক্রমণে ধাক্কা, তেলের বাজারে অস্থিরতা

১১:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আক্রমণ আরও জোরদার করেছে। সমুদ্রপথের উপর দিয়ে নিচুতে উড়ে যুদ্ধবিমান ইরানের নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, পাশাপাশি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করা হচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো সীমিত।

প্রণালী পুনরুদ্ধারে বহুস্তর পরিকল্পনা

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র নৌকা, সমুদ্র মাইন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি কমিয়ে আনা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। মার্চের শুরু থেকেই এসব হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে এবং পরে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

US war planes and helicopters kick off battle to reopen Hormuz | The Australian

আকাশ ও সমুদ্রপথে একযোগে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী আক্রমণ বিমান এবং হেলিকপ্টার ইতোমধ্যেই ইরানের দ্রুতগতির নৌকা ধ্বংসে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব নৌকা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানি করে আসছিল। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের পাল্টা সক্ষমতা এখনো অটুট

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ মাইন, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোপন ঘাঁটিতে লুকিয়ে থাকা নৌযান রয়েছে। উপকূল ও দ্বীপজুড়ে গভীর টানেলে এসব অস্ত্র মজুদ থাকায় সম্পূর্ণ হুমকি দূর করতে সময় লাগবে। ফলে নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা দ্রুত সম্ভব নয়।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একসময় ১১৯ ডলার ছুঁয়ে পরে কিছুটা কমে এলেও বাজারে অস্থিরতা এখনো বজায় রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে কেমন প্রভাব পড়তে পারে? | The Business Standard

ইরানের নতুন কৌশল ও ভূরাজনৈতিক চাপ

ইরান সীমিতভাবে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং প্রণালী ব্যবহার করতে টোল আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর উপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আংশিকভাবে পথ খুলে দিলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। অতীতে অনুরূপ সংঘাতে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চলার নজির রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলছে।