১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা, নিশ্চিত করল না বেইজিং পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে

সহায়তা কমলেও আফ্রিকার উত্থান: বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে মহাদেশ

Internally Displaced People (IDP's) receive food aid from USAID in Darfur, Sudan. Photograph Matrix Images/CCIJ

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সহায়তা কমে যাওয়া এবং যুদ্ধের প্রভাব—সবকিছুর মাঝেও আফ্রিকা এখন নতুন এক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। যেখানে আগে এই মহাদেশকে সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার চোখে দেখা হতো, এখন সেখানে বিনিয়োগের বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে আফ্রিকা।

সহায়তা কমলেও থামেনি অগ্রযাত্রা

গত বছরে বিশ্বের বড় দাতা দেশগুলো আফ্রিকায় তাদের সহায়তা কমিয়েছে। একই সময়ে কিছু দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সার খরচ বৃদ্ধি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আফ্রিকার অর্থনীতি দৃঢ়তা দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি এশিয়াকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি হওয়া দেশগুলোর বেশিরভাগই এই মহাদেশে অবস্থান করছে।

বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আফ্রিকা

আফ্রিকার এই উত্থানের পেছনে বড় কারণ হলো বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরে মহাদেশটি রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যা সহায়তার তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছে আফ্রিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের ক্ষেত্র।

চীন যদিও ঋণ কম দিচ্ছে, কিন্তু বাণিজ্য এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও এখন নিজেদের অর্থ দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীতিগত পরিবর্তনে বাড়ছে স্থিতিশীলতা

আফ্রিকার অনেক দেশ এখন অর্থনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বড় অর্থনীতিগুলোতে বাজারমুখী সংস্কার শুরু হয়েছে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।

রেলপথ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত হচ্ছে।

স্থানীয় শক্তির উত্থান

আফ্রিকার বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি আয় করছে এবং সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে নতুন প্রকল্প গড়ে উঠছে। এতে করে বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমছে।

চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে

তবে সবকিছুই ইতিবাচক নয়। প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ঘাটতি, কৃষিতে কম উৎপাদনশীলতা এবং শিক্ষায় স্থবিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতিও অনেক দেশে উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইউরোপের ধীরগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে আফ্রিকা এখন তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ফলে বিশ্ব এখন নতুনভাবে এই মহাদেশকে দেখছে—সহায়তার ক্ষেত্র নয়, বরং সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ

সহায়তা কমলেও আফ্রিকার উত্থান: বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে মহাদেশ

০১:১৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সহায়তা কমে যাওয়া এবং যুদ্ধের প্রভাব—সবকিছুর মাঝেও আফ্রিকা এখন নতুন এক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। যেখানে আগে এই মহাদেশকে সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার চোখে দেখা হতো, এখন সেখানে বিনিয়োগের বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে আফ্রিকা।

সহায়তা কমলেও থামেনি অগ্রযাত্রা

গত বছরে বিশ্বের বড় দাতা দেশগুলো আফ্রিকায় তাদের সহায়তা কমিয়েছে। একই সময়ে কিছু দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সার খরচ বৃদ্ধি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আফ্রিকার অর্থনীতি দৃঢ়তা দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি এশিয়াকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি হওয়া দেশগুলোর বেশিরভাগই এই মহাদেশে অবস্থান করছে।

বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আফ্রিকা

আফ্রিকার এই উত্থানের পেছনে বড় কারণ হলো বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরে মহাদেশটি রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যা সহায়তার তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছে আফ্রিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের ক্ষেত্র।

চীন যদিও ঋণ কম দিচ্ছে, কিন্তু বাণিজ্য এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও এখন নিজেদের অর্থ দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীতিগত পরিবর্তনে বাড়ছে স্থিতিশীলতা

আফ্রিকার অনেক দেশ এখন অর্থনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বড় অর্থনীতিগুলোতে বাজারমুখী সংস্কার শুরু হয়েছে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।

রেলপথ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত হচ্ছে।

স্থানীয় শক্তির উত্থান

আফ্রিকার বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি আয় করছে এবং সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে নতুন প্রকল্প গড়ে উঠছে। এতে করে বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমছে।

চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে

তবে সবকিছুই ইতিবাচক নয়। প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ঘাটতি, কৃষিতে কম উৎপাদনশীলতা এবং শিক্ষায় স্থবিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতিও অনেক দেশে উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইউরোপের ধীরগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে আফ্রিকা এখন তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ফলে বিশ্ব এখন নতুনভাবে এই মহাদেশকে দেখছে—সহায়তার ক্ষেত্র নয়, বরং সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে।