০৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান প্রশ্নে বাড়ছে কঠোরতা

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রশ্নে সামরিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনা জনমত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। বাণিজ্য যুদ্ধের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সমর্থন। এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে ৬২ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুতে আলোচনার পক্ষে সমর্থন খুবই কম। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে সমঝোতার কথা বলেছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, জনমত এখন আরও কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে সামরিক সমর্থন

তাইওয়ানকে একীভূত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা আগের তুলনায় কমে গেছে। দুই বছর আগে যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছিল, এখন সেই হার নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে পৌঁছেছে।

তাইওয়ানকে চীনের মানুষ “পরিবার” হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় কঠোর অবস্থান বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের অস্ত্র চুক্তি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধনী ও সাধারণ মানুষের মতভেদ

জরিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—আয়ের ভিত্তিতে মতামতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও সমাজকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে দেখলেও, একই সঙ্গে তারা চীনের শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে বেশি সরব। তারা রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক এবং তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতিও বেশি খোলা মনোভাব রাখে।

রাষ্ট্রীয় বয়ানের বাইরে ভিন্ন মত

সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সঙ্গে জনমত পুরোপুরি মেলে না। যেমন, ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া হলেও চীনের ৪৪ শতাংশ মানুষ সেখানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে।

দক্ষিণ চীন সাগরের দাবির ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপস্থিতি কমলে কিছু দাবি ছেড়ে দিতে রাজি।

এছাড়া কূটনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দেশ হলেও কম্বোডিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক, মূলত প্রতারণা চক্রের কারণে।

জনমত ও রাষ্ট্রনীতির সম্পর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে জনমত অনেকাংশে রাষ্ট্রীয় বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হলেও তা সম্পূর্ণ একমুখী নয়। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই জনসমর্থন ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান দেখাতে।

তবে একই সঙ্গে জনমত পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতেও পারে, যা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান প্রশ্নে বাড়ছে কঠোরতা

০৪:২২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রশ্নে সামরিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনা জনমত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। বাণিজ্য যুদ্ধের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সমর্থন। এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে ৬২ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুতে আলোচনার পক্ষে সমর্থন খুবই কম। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে সমঝোতার কথা বলেছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, জনমত এখন আরও কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে সামরিক সমর্থন

তাইওয়ানকে একীভূত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা আগের তুলনায় কমে গেছে। দুই বছর আগে যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছিল, এখন সেই হার নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে পৌঁছেছে।

তাইওয়ানকে চীনের মানুষ “পরিবার” হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় কঠোর অবস্থান বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের অস্ত্র চুক্তি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধনী ও সাধারণ মানুষের মতভেদ

জরিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—আয়ের ভিত্তিতে মতামতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও সমাজকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে দেখলেও, একই সঙ্গে তারা চীনের শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে বেশি সরব। তারা রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক এবং তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতিও বেশি খোলা মনোভাব রাখে।

রাষ্ট্রীয় বয়ানের বাইরে ভিন্ন মত

সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সঙ্গে জনমত পুরোপুরি মেলে না। যেমন, ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া হলেও চীনের ৪৪ শতাংশ মানুষ সেখানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে।

দক্ষিণ চীন সাগরের দাবির ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপস্থিতি কমলে কিছু দাবি ছেড়ে দিতে রাজি।

এছাড়া কূটনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দেশ হলেও কম্বোডিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক, মূলত প্রতারণা চক্রের কারণে।

জনমত ও রাষ্ট্রনীতির সম্পর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে জনমত অনেকাংশে রাষ্ট্রীয় বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হলেও তা সম্পূর্ণ একমুখী নয়। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এই জনসমর্থন ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান দেখাতে।

তবে একই সঙ্গে জনমত পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতেও পারে, যা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।