বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অনিশ্চয়তার সময়েও চীন যেভাবে নিজেকে স্থিতিশীল রাখছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্বনির্ভরতা-কেন্দ্রিক কৌশল। ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে, কেন বেইজিং বহু বছর ধরে নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
‘এনার্জি রাইস বোল’ থেকে বাস্তব কৌশল
চীনের নেতৃত্ব বহু আগে থেকেই খাদ্যের মতো জ্বালানিকেও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে। দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার ধারণা থেকেই গড়ে উঠেছে ‘এনার্জি রাইস বোল’ ভাবনা। এর অর্থ পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, বরং সংকটের সময় যাতে বাইরের ওপর নির্ভরতা কম থাকে, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা।
ইরান সংকটেও ভেঙে পড়েনি সরবরাহ
চীনের তেলের একটি অংশ ইরান থেকে এলেও সেটি একমাত্র উৎস নয়। বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি এবং বিকল্প রুট ব্যবহারের কারণে সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি। একই সঙ্গে আগেভাগে মজুত গড়ে তোলার ফলে অন্তত কয়েক মাসের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রয়েছে।
বহুমুখী জ্বালানি নীতি
চীন শুধু তেলের ওপর নির্ভর করে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ, পাশাপাশি কয়লার ব্যবহার বজায় রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বহুমুখী জ্বালানি কাঠামো। এর ফলে কোনো একটি উৎসে সমস্যা হলেও পুরো ব্যবস্থায় ধস নামে না।
স্বনির্ভরতা মানে একা থাকা নয়
চীনের কৌশল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। বরং যেখানে সম্ভব নিজস্ব উৎপাদন, আর যেখানে সম্ভব নয় সেখানে বৈচিত্র্যময় সরবরাহ ব্যবস্থা রাখা। খাদ্য থেকে জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই একই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
কেন এই পথ বেছে নিয়েছে বেইজিং
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতা চীনকে শিখিয়েছে, বাইরের ওপর পুরোপুরি নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বেশি খরচ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে তারা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ মনে করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















