১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা, নিশ্চিত করল না বেইজিং পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব টাকার কার্লসন, ইরান যুদ্ধ ঘিরে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বড় প্রশ্ন

মার্কিন রাজনীতিতে ডানপন্থী মিডিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ টাকার কার্লসন এখন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ এই সম্পর্ক এখন রূপ নিয়েছে তীব্র মতবিরোধে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি। কার্লসনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মনে করেন ট্রাম্প নিজের ঘোষিত নীতির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক পথে হাঁটছেন।

ঘনিষ্ঠতা থেকে সংঘাতে রূপ

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পাশে সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন কার্লসন। প্রচারণার মঞ্চে তার উপস্থিতি, রিপাবলিকান কনভেনশনে সক্রিয় ভূমিকা এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন ট্রাম্প শিবিরের অন্যতম মুখ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবস্থানগত পার্থক্য ক্রমে দূরত্ব তৈরি করে। এখন সেই সম্পর্কের জায়গায় এসেছে প্রকাশ্য সমালোচনা ও মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

কার্লসনের মতে, ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সরাসরি বিরোধী। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু নীতিগত বিচ্যুতি নয়, বরং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান। তার ভাষায়, এটি এমন এক সিদ্ধান্ত যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বার্থের বদলে বাইরের চাপকে প্রতিফলিত করে।

ইসরায়েল প্রসঙ্গে বিতর্ক

ইরান ইস্যুর পাশাপাশি কার্লসন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, একটি ছোট রাষ্ট্রের প্রভাব এত বড় কৌশলগত সিদ্ধান্তে থাকা অস্বাভাবিক। এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের একটি অংশ তার বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিলেও কার্লসন তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং নিজের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে বলেই তুলে ধরেছেন।

চীন প্রসঙ্গে বাস্তবতার স্বীকারোক্তি

কার্লসন মনে করেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র আর একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারছে না। চীন এখন একটি বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে এবং এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন কৌশলগত সমঝোতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পথে হাঁটতে হবে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

ইউরোপকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল

কার্লসনের দৃষ্টিতে ইউরোপই পশ্চিমা বিশ্বের প্রকৃত কেন্দ্র। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং একে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা। যদিও ইউরোপের নেতৃত্ব নিয়ে তার সমালোচনা রয়েছে, তবুও তিনি ইউরোপের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এটিকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভূমিকা

ট্রাম্প-পরবর্তী মার্কিন রাজনীতিতে কে নেতৃত্ব দেবেন, সে প্রশ্নে কার্লসন সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় প্রভাব রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার মতে, জনমত গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং তিনি সেই জায়গা থেকেই নিজের ভূমিকা রাখতে চান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব টাকার কার্লসন, ইরান যুদ্ধ ঘিরে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বড় প্রশ্ন

১০:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

মার্কিন রাজনীতিতে ডানপন্থী মিডিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ টাকার কার্লসন এখন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ এই সম্পর্ক এখন রূপ নিয়েছে তীব্র মতবিরোধে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি। কার্লসনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মনে করেন ট্রাম্প নিজের ঘোষিত নীতির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক পথে হাঁটছেন।

ঘনিষ্ঠতা থেকে সংঘাতে রূপ

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পাশে সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন কার্লসন। প্রচারণার মঞ্চে তার উপস্থিতি, রিপাবলিকান কনভেনশনে সক্রিয় ভূমিকা এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন ট্রাম্প শিবিরের অন্যতম মুখ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবস্থানগত পার্থক্য ক্রমে দূরত্ব তৈরি করে। এখন সেই সম্পর্কের জায়গায় এসেছে প্রকাশ্য সমালোচনা ও মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

কার্লসনের মতে, ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সরাসরি বিরোধী। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু নীতিগত বিচ্যুতি নয়, বরং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান। তার ভাষায়, এটি এমন এক সিদ্ধান্ত যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বার্থের বদলে বাইরের চাপকে প্রতিফলিত করে।

ইসরায়েল প্রসঙ্গে বিতর্ক

ইরান ইস্যুর পাশাপাশি কার্লসন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, একটি ছোট রাষ্ট্রের প্রভাব এত বড় কৌশলগত সিদ্ধান্তে থাকা অস্বাভাবিক। এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের একটি অংশ তার বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিলেও কার্লসন তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং নিজের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে বলেই তুলে ধরেছেন।

চীন প্রসঙ্গে বাস্তবতার স্বীকারোক্তি

কার্লসন মনে করেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র আর একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারছে না। চীন এখন একটি বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে এবং এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন কৌশলগত সমঝোতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পথে হাঁটতে হবে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

ইউরোপকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল

কার্লসনের দৃষ্টিতে ইউরোপই পশ্চিমা বিশ্বের প্রকৃত কেন্দ্র। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং একে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা। যদিও ইউরোপের নেতৃত্ব নিয়ে তার সমালোচনা রয়েছে, তবুও তিনি ইউরোপের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এটিকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভূমিকা

ট্রাম্প-পরবর্তী মার্কিন রাজনীতিতে কে নেতৃত্ব দেবেন, সে প্রশ্নে কার্লসন সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় প্রভাব রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার মতে, জনমত গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং তিনি সেই জায়গা থেকেই নিজের ভূমিকা রাখতে চান।