০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

দেউলিয়ার ঢেউয়ে কাঁপছে আমেরিকা: কর্পোরেট ঋণ সংকটের অদৃশ্য বিস্ফোরণ

সারাক্ষণ রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট জগতে আবারও দেউলিয়ার ছায়া ঘনিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগেও যখন সুদের হার বাড়ার পর বড় ধরনের ঋণ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ঋণবাজারের জটিল কাঠামো আবারও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্পোরেট দেউলিয়া ফের আলোচনায়

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের মধ্যে খেলাপির হার প্রায় পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরের বছর কিছুটা কমলেও এখন আবার সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে দ্বিধায় থাকায় ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ইতিহাস বলছে, জ্বালানির ধাক্কা প্রায়ই বড় ধরনের ঋণ খেলাপির ঢেউ তৈরি করে।

বেসরকারি ঋণবাজারে লুকানো ঝুঁকি

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে বেসরকারি ঋণবাজার। গত কয়েক বছরে এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে খেলাপির হার দুই শতাংশের নিচে দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দেউলিয়া না হয়ে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। তারা সুদের টাকা মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে সময় নিচ্ছে বা ঋণ পুনর্গঠন করছে। ফলে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখালেও প্রকৃত ঝুঁকি জমে উঠছে নীরবে।

ঋণ পুনর্গঠন: সময় কিনছে, না সংকট বাড়াচ্ছে

বিপদে পড়া কোম্পানিগুলো দেউলিয়া ঘোষণার বদলে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ঋণের সময়সীমা বাড়ানো, শর্ত পরিবর্তন বা মালিকানা ঋণদাতাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এখন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সরাসরি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে, যা প্রকাশ্যে দেউলিয়ার চেয়ে কম আলোচিত হলেও ঝুঁকির গভীরতা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমাধান সাময়িকভাবে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখলেও মূল সমস্যার সমাধান করে না। বরং এতে বাজারের প্রকৃত দুর্বলতা আড়াল হয়ে যায়।

প্রযুক্তি পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, নতুন প্রযুক্তি তাদের ব্যবসা অচল করে দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়ছেন, যা ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব মিলিয়ে কর্পোরেট ঋণ সংকট এখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংকট প্রকাশ পেতে সময় লাগলেও ভিতরে ভিতরে ঝুঁকি ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। অর্থনীতির ওপর নতুন কোনো ধাক্কা এলে এই চাপ দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

০৪:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

দেউলিয়ার ঢেউয়ে কাঁপছে আমেরিকা: কর্পোরেট ঋণ সংকটের অদৃশ্য বিস্ফোরণ

সারাক্ষণ রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট জগতে আবারও দেউলিয়ার ছায়া ঘনিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগেও যখন সুদের হার বাড়ার পর বড় ধরনের ঋণ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ঋণবাজারের জটিল কাঠামো আবারও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্পোরেট দেউলিয়া ফের আলোচনায়

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের মধ্যে খেলাপির হার প্রায় পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরের বছর কিছুটা কমলেও এখন আবার সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে দ্বিধায় থাকায় ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ইতিহাস বলছে, জ্বালানির ধাক্কা প্রায়ই বড় ধরনের ঋণ খেলাপির ঢেউ তৈরি করে।

বেসরকারি ঋণবাজারে লুকানো ঝুঁকি

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে বেসরকারি ঋণবাজার। গত কয়েক বছরে এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে খেলাপির হার দুই শতাংশের নিচে দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দেউলিয়া না হয়ে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। তারা সুদের টাকা মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে সময় নিচ্ছে বা ঋণ পুনর্গঠন করছে। ফলে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখালেও প্রকৃত ঝুঁকি জমে উঠছে নীরবে।

ঋণ পুনর্গঠন: সময় কিনছে, না সংকট বাড়াচ্ছে

বিপদে পড়া কোম্পানিগুলো দেউলিয়া ঘোষণার বদলে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ঋণের সময়সীমা বাড়ানো, শর্ত পরিবর্তন বা মালিকানা ঋণদাতাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এখন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সরাসরি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে, যা প্রকাশ্যে দেউলিয়ার চেয়ে কম আলোচিত হলেও ঝুঁকির গভীরতা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমাধান সাময়িকভাবে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখলেও মূল সমস্যার সমাধান করে না। বরং এতে বাজারের প্রকৃত দুর্বলতা আড়াল হয়ে যায়।

প্রযুক্তি পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, নতুন প্রযুক্তি তাদের ব্যবসা অচল করে দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়ছেন, যা ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব মিলিয়ে কর্পোরেট ঋণ সংকট এখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংকট প্রকাশ পেতে সময় লাগলেও ভিতরে ভিতরে ঝুঁকি ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। অর্থনীতির ওপর নতুন কোনো ধাক্কা এলে এই চাপ দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে।