ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা চলছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট: হুমকি ও পাল্টা সতর্কবার্তা
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়, যখন ইরান সতর্ক করে দেয়—যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে আঘাত হানে, তবে তারা ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আলোচনার দাবি ও দ্বন্দ্ব
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরোপুরি সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগই হয়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও বিস্তারিত কিছু জানায়নি—আলোচনায় কারা অংশ নিয়েছে বা কোথায় হয়েছে, সে প্রশ্নগুলোরও উত্তর মেলেনি।
বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়, ডলারের মান অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে দুর্বল হয়, শেয়ারবাজারে উত্থান ঘটে এবং সরকারি ঋণের সুদের হারও কমে আসে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চাপ
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। বর্তমানে ইরানের হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ বহন করে।
সংঘাতের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা জোটের স্থিতিশীলতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















