ভূমধ্যসাগরে একটি পরিত্যক্ত রুশ তেলবাহী জাহাজ ভেসে থাকার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ড্রোন হামলার পর ক্রুরা জাহাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এটি এখন নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজ, বাড়ছে ঝুঁকি
‘আর্কটিক মেটাগাজ’ নামের প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজটি হামলার পর থেকে সমুদ্রে ভেসে রয়েছে। জাহাজটির গায়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এতে অন্তত ৭০০ টন জ্বালানি ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি “পরিবেশগত টাইম বোমা”, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দায় নিতে অনীহা বিভিন্ন দেশের
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কেউ সরাসরি দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেনি।
ইতালি জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের জলসীমার বাইরে থাকায় তারা সরাসরি নজরদারি করতে পারছে না। অন্যদিকে লিবিয়া সতর্কতা জারি করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
রাশিয়া এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে এবং বিষয়টি সামাল দিতে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইউক্রেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউরোপীয় দেশগুলোর সতর্কবার্তা
নয়টি ইউরোপীয় দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি “গুরুতর পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি” তৈরি করছে।

সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি জাহাজটি থেকে জ্বালানি বা গ্যাস লিক হয়, তাহলে তা সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে অগ্নিকাণ্ড, বিষাক্ত গ্যাসের মেঘ এবং দীর্ঘমেয়াদি দূষণের ঝুঁকিও রয়েছে।
ছায়া বহরের অংশ ছিল জাহাজটি
তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ ছিল, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে জাহাজটি আগে থেকেই নজরদারির আওতায় ছিল।
দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















