মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিল, যখন ইরান একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে তোলে। এই হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত মিললেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান, ফলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপ, উদ্ধার তৎপরতা জোরদার
হামলার পর তেল আবিবের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে, কোথাও কোথাও আগুনও লেগেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। অন্য একটি ভবনের আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পাল্টা আঘাত তেহরানে
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে সামরিক কমান্ড সেন্টার, গোয়েন্দা স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। একাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
আলোচনার দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং সংঘাত নিরসনের পথে অগ্রগতি রয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ নেতারা এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, এমন কোনো আলোচনা হয়নি এবং এটি কেবল বাজার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করার একটি কৌশল।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা
সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
বাজারে অস্থিরতা, তেলের দামে উত্থান
সংঘাত ও আলোচনার দ্বন্দ্বে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম হঠাৎ ওঠানামা করছে, বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং যেকোনো সময় আরও বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান করছে। সম্ভাব্য আলোচনার জন্য নতুন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে, যদিও সরাসরি আলোচনার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। তবুও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















