বিশ্বের মহাসাগরজুড়ে সমুদ্রতল মানচিত্র তৈরিতে ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছে চীন। এই কার্যক্রম শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উদ্দেশ্যও বহন করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
মহাসাগরে চীনের বিস্তৃত অভিযান
প্রশান্ত, ভারতীয় ও আর্কটিক মহাসাগরের বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে একাধিক গবেষণা জাহাজ মোতায়েন করেছে বেইজিং। এসব জাহাজ সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতি, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং স্রোতের তথ্য সংগ্রহ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য সাবমেরিন পরিচালনা ও শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার আড়ালে সামরিক লক্ষ্য
চীনের দাবি, এসব কার্যক্রম মূলত জলবায়ু গবেষণা, খনিজ অনুসন্ধান ও মৎস্যসম্পদ চিহ্নিত করার জন্য। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একই তথ্য যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্যও সমানভাবে কার্যকর। সমুদ্রের নিচের পরিবেশ সম্পর্কে যত বেশি জানা যাবে, তত সহজ হবে সাবমেরিন লুকিয়ে রাখা কিংবা প্রতিপক্ষকে খুঁজে বের করা।
কৌশলগত অঞ্চল ঘিরে নজর
গুয়াম, ফিলিপাইন, হাওয়াই এবং মালাক্কা প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের আশপাশে চীনের এই জরিপ কার্যক্রম বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এসব এলাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামরিক চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘স্বচ্ছ সমুদ্র’ প্রকল্প
চীন সমুদ্রের নিচে সেন্সর বসিয়ে একটি তথাকথিত ‘স্বচ্ছ সমুদ্র’ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এই নেটওয়ার্ক পানির ভেতরের পরিবর্তন এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে সাবমেরিনের চলাচল শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।
শক্তির ভারসাম্যে নতুন চাপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে তথ্যগত সুবিধা ছিল, চীনের এই উদ্যোগ তা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রকেন্দ্রিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
কৌশলগত উদ্বেগ বাড়ছে
চীনের এই বিস্তৃত সমুদ্র জরিপ কার্যক্রমকে শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, বরং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















