কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, শুরু হয়েছে উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতা।
দুর্ঘটনার স্থান ও সময়
দেশটির আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশের দুর্গম এলাকা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে সোমবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি উড্ডয়নের পর মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে ভূপাতিত হয়। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল ইকুয়েডর ও পেরুর কাছাকাছি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত, ফলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরুতে কঠিন হয়ে পড়ে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
১২৫ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করা সামরিক পরিবহন বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভেতরে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিমানটি মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায় এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কোনো সশস্ত্র হামলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
হতাহত ও নিখোঁজ
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় দুটি ছোট ক্লিনিকে নেওয়া হয়, পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতা
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের সরিয়ে নিতে বিশেষ ব্যবস্থায় একাধিক বিমান পাঠানো হয়। এসব বিমানে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা রাখা হয়েছিল, যাতে দ্রুত আহতদের স্থানান্তর করা যায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং কোনো অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার কাজ চলছে।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
গত মাসেও একই ধরনের একটি সামরিক পরিবহন বিমান দুর্ঘটনায় আরেক দেশে বহু প্রাণহানি ঘটে। ধারাবাহিক এমন দুর্ঘটনা সামরিক বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















