মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। এবার যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উঠে এসেছে পানি। ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পাল্টা আঘাত আসবে পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতে করে পুরো অঞ্চলে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
পানি এখন কৌশলগত অস্ত্র
যুদ্ধক্ষেত্রে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা খুব কম দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি তাদের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো ধ্বংস করে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক পানি ও তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করবে।
এই হুমকি আসে এমন এক সময়ে, যখন পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই পথ খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
লবণাক্ত পানি শোধনাগার ঘিরে আতঙ্ক
মধ্যপ্রাচ্যে বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস হলো সমুদ্রের পানি শোধনাগার। বিশ্বের মোট শোধন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক এই অঞ্চলে অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান ও কুয়েতের পানির বড় অংশই এসব স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব স্থাপনায় হামলা হলে তা কেবল পানি সংকটই নয়, পুরো শহর খালি হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি পানি রেশনিং চালু করার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।
হামলা শুরু, তবে বিপর্যয় এখনো সীমিত
ইতোমধ্যে বাহরাইনে একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এতে বড় ধরনের সরবরাহ ব্যাহত হয়নি, তবে এটি ভবিষ্যতের বড় সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে তাদের কেশম দ্বীপের পানি স্থাপনায়ও হামলা হয়েছে, যা বহু গ্রামের পানির উৎস।
ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে বর্তমান যুদ্ধের চেয়েও বড় সংঘাত তৈরি হতে পারে। কারণ পানি শুধু মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নয়, অর্থনীতি, পর্যটন, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া তেল দূষণ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো ঘটনাও এসব স্থাপনাকে অকার্যকর করে দিতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সীমিত সুরক্ষা, বড় ঝুঁকি
কিছু দেশে পানি শোধনাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি হামলা হলে এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বর্তমানে অধিকাংশ স্থাপনায় দুই থেকে সাত দিনের পানির মজুত থাকে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘ হলে এই মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















