ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মাঝেও রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বরং জনমত জরিপে তার অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি এড়াতে এখন বাজেট পাস করাতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
যুদ্ধের মাঝেও ভোটে সুবিধা নেই
যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহুর শিবির মনে করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা রাজনৈতিকভাবে তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে। এমনকি আগাম নির্বাচন ডেকে সেই সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পার হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের মনোভাব তেমন বদলায়নি।

জরিপ বলছে, প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত রয়েছে ভোটাররা। ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধীরা প্রায় সমান সমর্থন ধরে রেখেছে, আর অনিশ্চিত ভোটাররা এখনো নেতানিয়াহুর দিকে ঝুঁকছেন না। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক লাভের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
আগাম নির্বাচন ঠেকাতে বাজেট দৌড়
আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজেট পাস না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন আসবে। এই ঝুঁকি এড়াতে নেতানিয়াহু দ্রুত বাজেট পাস করানোর চেষ্টা করছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তিনি জোটের শরিকদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পথও বেছে নিয়েছেন।
এই বাজেটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলমান যুদ্ধের খরচ সামাল দিতে জরুরি হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে
ইরান সংঘাতের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ পড়ছে। প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল
নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে জোট রাজনীতির কারণে। বিভিন্ন দলের সমর্থন ধরে রাখতে তাকে অতিরিক্ত ছাড় দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলাও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ চললেও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারছেন না নেতানিয়াহু। তাই এখন তার মূল কৌশল সময় নেওয়া এবং যেকোনোভাবে বর্তমান সরকার টিকিয়ে রাখা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















