১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধসমর্থন বাড়ছে

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং তাইওয়ান প্রশ্নে আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চীনা নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি স্পষ্ট এবং শক্ত অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা তরুণদের মধ্যে চীন নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও চীনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও অধিকাংশ মানুষ সমর্থন দিচ্ছেন, এমনকি এতে নিজ দেশের ক্ষতি হলেও।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার পক্ষে খুবই কম মানুষ মত দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কঠোর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা | China-Taiwan Tensions | ইত্তেফাক

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে কড়া অবস্থান

তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একীভূতকরণের বিরোধিতা করতেন, এখন সেই হার কমে গেছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে একই সঙ্গে তাইওয়ানের জনগণকে পরিবার হিসেবে দেখার প্রবণতাও বজায় রয়েছে, যা রাষ্ট্রের প্রচারণার সঙ্গে মিল রেখে চলে।

ট্রাম্প নীতির প্রভাব ও চীনের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি চীনের জনগণের মনোভাব আরও কঠোর করে তুলেছে। পাল্টাপাল্টি কৌশল গ্রহণে সরকারের অবস্থানের প্রতি জনগণের সমর্থনও বেড়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাবেন

আয়ভিত্তিক মতপার্থক্য

জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আয়ের ভিত্তিতে মতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চীনের শক্তি প্রদর্শন ও তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতি বেশি সমর্থনশীল।

রাষ্ট্রের বয়ান ও জনগণের বাস্তবতা

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা জনমতকে প্রভাবিত করলেও কিছু ক্ষেত্রে জনগণের মত ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কঠোর অবস্থান থাকলেও কিছু মানুষ সমঝোতার পথেও আগ্রহী।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চীনের জনমত একদিকে রাষ্ট্রের বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলনও বহন করছে। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধসমর্থন বাড়ছে

০১:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং তাইওয়ান প্রশ্নে আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চীনা নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি স্পষ্ট এবং শক্ত অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা তরুণদের মধ্যে চীন নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও চীনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও অধিকাংশ মানুষ সমর্থন দিচ্ছেন, এমনকি এতে নিজ দেশের ক্ষতি হলেও।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার পক্ষে খুবই কম মানুষ মত দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কঠোর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা | China-Taiwan Tensions | ইত্তেফাক

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে কড়া অবস্থান

তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একীভূতকরণের বিরোধিতা করতেন, এখন সেই হার কমে গেছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে একই সঙ্গে তাইওয়ানের জনগণকে পরিবার হিসেবে দেখার প্রবণতাও বজায় রয়েছে, যা রাষ্ট্রের প্রচারণার সঙ্গে মিল রেখে চলে।

ট্রাম্প নীতির প্রভাব ও চীনের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি চীনের জনগণের মনোভাব আরও কঠোর করে তুলেছে। পাল্টাপাল্টি কৌশল গ্রহণে সরকারের অবস্থানের প্রতি জনগণের সমর্থনও বেড়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাবেন

আয়ভিত্তিক মতপার্থক্য

জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আয়ের ভিত্তিতে মতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চীনের শক্তি প্রদর্শন ও তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতি বেশি সমর্থনশীল।

রাষ্ট্রের বয়ান ও জনগণের বাস্তবতা

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা জনমতকে প্রভাবিত করলেও কিছু ক্ষেত্রে জনগণের মত ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কঠোর অবস্থান থাকলেও কিছু মানুষ সমঝোতার পথেও আগ্রহী।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চীনের জনমত একদিকে রাষ্ট্রের বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলনও বহন করছে। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।