০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আড়াই লাখ ভিসা কম, ভারত-চীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে জাপান-ইউরোপ সরাসরি জাহাজ চলাচল টিকে গেল শেষ মুহূর্তে, নতুন পথে স্বস্তি পেল বাণিজ্য বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, টিএসএ কর্মীদের বেতন বন্ধ, ডেমোক্র্যাটদের সাথে অচলাবস্থা তীব্র স্বর্ণভিত্তিক তহবিলে সিঙ্গাপুরের নতুন পদক্ষেপ, যুদ্ধের চাপে দামে অস্থিরতা গ্যাস সংকটে ভারত: ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি: আর্জেন্টিনায় মাইলেই সরকারের অভিযানে আতঙ্কে প্রবাসীরা সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের লাভ, জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বৈষম্য স্বাধীনতার চেতনায় উদযাপন, শ্রদ্ধা আর সংযমে ২৬ মার্চ: সারাদেশে দিনভর কর্মসূচি মৃত ভেবে দাফন, চার বছর পর জীবিত ফিরে এলেন ইউক্রেনের সৈনিক: যুদ্ধের বিভীষিকায় অবিশ্বাস্য ঘটনা ডিসেম্বরেই শেষ হবে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে বড় সিদ্ধান্ত

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধসমর্থন বাড়ছে

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং তাইওয়ান প্রশ্নে আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চীনা নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি স্পষ্ট এবং শক্ত অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা তরুণদের মধ্যে চীন নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও চীনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও অধিকাংশ মানুষ সমর্থন দিচ্ছেন, এমনকি এতে নিজ দেশের ক্ষতি হলেও।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার পক্ষে খুবই কম মানুষ মত দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কঠোর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা | China-Taiwan Tensions | ইত্তেফাক

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে কড়া অবস্থান

তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একীভূতকরণের বিরোধিতা করতেন, এখন সেই হার কমে গেছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে একই সঙ্গে তাইওয়ানের জনগণকে পরিবার হিসেবে দেখার প্রবণতাও বজায় রয়েছে, যা রাষ্ট্রের প্রচারণার সঙ্গে মিল রেখে চলে।

ট্রাম্প নীতির প্রভাব ও চীনের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি চীনের জনগণের মনোভাব আরও কঠোর করে তুলেছে। পাল্টাপাল্টি কৌশল গ্রহণে সরকারের অবস্থানের প্রতি জনগণের সমর্থনও বেড়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাবেন

আয়ভিত্তিক মতপার্থক্য

জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আয়ের ভিত্তিতে মতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চীনের শক্তি প্রদর্শন ও তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতি বেশি সমর্থনশীল।

রাষ্ট্রের বয়ান ও জনগণের বাস্তবতা

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা জনমতকে প্রভাবিত করলেও কিছু ক্ষেত্রে জনগণের মত ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কঠোর অবস্থান থাকলেও কিছু মানুষ সমঝোতার পথেও আগ্রহী।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চীনের জনমত একদিকে রাষ্ট্রের বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলনও বহন করছে। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আড়াই লাখ ভিসা কম, ভারত-চীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে

চীনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব তীব্র, তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধসমর্থন বাড়ছে

০১:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

চীনের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং তাইওয়ান প্রশ্নে আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে চীনা নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি স্পষ্ট এবং শক্ত অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা তরুণদের মধ্যে চীন নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও চীনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও অধিকাংশ মানুষ সমর্থন দিচ্ছেন, এমনকি এতে নিজ দেশের ক্ষতি হলেও।

চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার পক্ষে খুবই কম মানুষ মত দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কঠোর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা | China-Taiwan Tensions | ইত্তেফাক

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে কড়া অবস্থান

তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একীভূতকরণের বিরোধিতা করতেন, এখন সেই হার কমে গেছে। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে একই সঙ্গে তাইওয়ানের জনগণকে পরিবার হিসেবে দেখার প্রবণতাও বজায় রয়েছে, যা রাষ্ট্রের প্রচারণার সঙ্গে মিল রেখে চলে।

ট্রাম্প নীতির প্রভাব ও চীনের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি চীনের জনগণের মনোভাব আরও কঠোর করে তুলেছে। পাল্টাপাল্টি কৌশল গ্রহণে সরকারের অবস্থানের প্রতি জনগণের সমর্থনও বেড়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাবেন

আয়ভিত্তিক মতপার্থক্য

জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আয়ের ভিত্তিতে মতের পার্থক্য। উচ্চ আয়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চীনের শক্তি প্রদর্শন ও তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সমাধানের প্রতি বেশি সমর্থনশীল।

রাষ্ট্রের বয়ান ও জনগণের বাস্তবতা

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা জনমতকে প্রভাবিত করলেও কিছু ক্ষেত্রে জনগণের মত ভিন্ন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কঠোর অবস্থান থাকলেও কিছু মানুষ সমঝোতার পথেও আগ্রহী।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চীনের জনমত একদিকে রাষ্ট্রের বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলনও বহন করছে। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।