০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

আইসল্যান্ডে আগুনের স্রোত ঠেকাতে পানির যুদ্ধ, লাভা ঠান্ডা করার সাহসী অভিযানে বাঁচল শহর

আইসল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হঠাৎ একের পর এক ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। লাভার স্রোত ধেয়ে আসে ছোট্ট শহর গ্রিনদাভিক, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জনপ্রিয় পর্যটনস্থলের দিকে। ঠিক সেই সময় একদল দমকলকর্মী শুরু করেন এক অভাবনীয় অভিযান—লাভাকে ঠান্ডা করে তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।

Chasing the Lava Flow in Iceland | The New Yorker

 

লাভার বিরুদ্ধে অসম লড়াই
দমকলকর্মীদের নেতৃত্ব দেন হেলগি হিয়রলেইফসন নামে এক অভিজ্ঞ সদস্য, যিনি দেশটির একমাত্র ‘লাভা ঠান্ডা ব্যবস্থাপক’ হিসেবে পরিচিত। তাদের লক্ষ্য ছিল লাভার প্রবাহ পুরোপুরি থামানো নয়, বরং তাকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। এই পরিকল্পনা শুরুতে অনেকের কাছেই অসম্ভব ও অবাস্তব মনে হলেও তারা থেমে থাকেননি।

তারা প্রথমে মাটির উঁচু বাঁধ তৈরি করেন, যা নদীর তীরের মতো কাজ করে লাভাকে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন, শুধু বাঁধ যথেষ্ট নয়। তখন শুরু হয় লাভা ঠান্ডা করার চেষ্টা—বিশাল পাম্প ও মোটা পাইপের মাধ্যমে প্রচুর পানি ছিটিয়ে লাভার তাপমাত্রা কমানো হয়।

ঝুঁকি আর সতর্কতার লড়াই
এই কাজ ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোথায় কত পানি ছিটানো হবে, তা ভুল হলে লাভার দিক পরিবর্তন হয়ে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। অতিরিক্ত পানি বাঁধ দুর্বল করে দিতে পারত, এমনকি বাষ্প বিস্ফোরণের আশঙ্কাও ছিল। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

দিন-রাত পরিশ্রম করে দমকলকর্মীরা লাভার গতি কমাতে সক্ষম হন। এই প্রচেষ্টার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন এলাকা এবং অনেক বাড়িঘর রক্ষা পায়।

Iceland's Chief 'Lava Cooler' Is Bracing for the Next Volcanic Eruption -  The New York Times

মানবিক গল্প ও ত্যাগ
এই অভিযানের পেছনে রয়েছে অনেক মানবিক গল্প। শহরের মানুষদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেন, কেউ স্মৃতিচিহ্ন। আবার এক অসুস্থ সুরকার শেষবারের মতো নিজের পিয়ানোর কাছে বসে গান করেন, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা—এক আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্ত।

নতুন হুমকি ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই এলাকায় ম্যাগমার প্রবাহ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে, ফলে আবারও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যদি নতুন ফাটল সৃষ্টি হয়, তাহলে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রযুক্তিই যথেষ্ট নাও হতে পারে।

তবুও কর্মকর্তারা মনে করছেন, লাভা ঠান্ডা করার এই পদ্ধতি কার্যকর ছিল এবং ভবিষ্যতেও এটি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মতে, এই প্রচেষ্টা না থাকলে পুরো শহরই ধ্বংস হয়ে যেত।

Visiting Iceland During a Volcano Eruption: Is It Safe? Can You Go?

মানুষের ইচ্ছাশক্তির জয়
হেলগি হিয়রলেইফসনের কথায়, অনেকেই এই পরিকল্পনাকে পাগলামি বলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, চেষ্টা না করলে কখনো জানা যায় না কী সম্ভব। এই বিশ্বাস আর সাহসিকতাই শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেছে একটি শহরকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

আইসল্যান্ডে আগুনের স্রোত ঠেকাতে পানির যুদ্ধ, লাভা ঠান্ডা করার সাহসী অভিযানে বাঁচল শহর

০২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আইসল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হঠাৎ একের পর এক ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। লাভার স্রোত ধেয়ে আসে ছোট্ট শহর গ্রিনদাভিক, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জনপ্রিয় পর্যটনস্থলের দিকে। ঠিক সেই সময় একদল দমকলকর্মী শুরু করেন এক অভাবনীয় অভিযান—লাভাকে ঠান্ডা করে তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।

Chasing the Lava Flow in Iceland | The New Yorker

 

লাভার বিরুদ্ধে অসম লড়াই
দমকলকর্মীদের নেতৃত্ব দেন হেলগি হিয়রলেইফসন নামে এক অভিজ্ঞ সদস্য, যিনি দেশটির একমাত্র ‘লাভা ঠান্ডা ব্যবস্থাপক’ হিসেবে পরিচিত। তাদের লক্ষ্য ছিল লাভার প্রবাহ পুরোপুরি থামানো নয়, বরং তাকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। এই পরিকল্পনা শুরুতে অনেকের কাছেই অসম্ভব ও অবাস্তব মনে হলেও তারা থেমে থাকেননি।

তারা প্রথমে মাটির উঁচু বাঁধ তৈরি করেন, যা নদীর তীরের মতো কাজ করে লাভাকে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন, শুধু বাঁধ যথেষ্ট নয়। তখন শুরু হয় লাভা ঠান্ডা করার চেষ্টা—বিশাল পাম্প ও মোটা পাইপের মাধ্যমে প্রচুর পানি ছিটিয়ে লাভার তাপমাত্রা কমানো হয়।

ঝুঁকি আর সতর্কতার লড়াই
এই কাজ ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোথায় কত পানি ছিটানো হবে, তা ভুল হলে লাভার দিক পরিবর্তন হয়ে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। অতিরিক্ত পানি বাঁধ দুর্বল করে দিতে পারত, এমনকি বাষ্প বিস্ফোরণের আশঙ্কাও ছিল। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

দিন-রাত পরিশ্রম করে দমকলকর্মীরা লাভার গতি কমাতে সক্ষম হন। এই প্রচেষ্টার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন এলাকা এবং অনেক বাড়িঘর রক্ষা পায়।

Iceland's Chief 'Lava Cooler' Is Bracing for the Next Volcanic Eruption -  The New York Times

মানবিক গল্প ও ত্যাগ
এই অভিযানের পেছনে রয়েছে অনেক মানবিক গল্প। শহরের মানুষদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেন, কেউ স্মৃতিচিহ্ন। আবার এক অসুস্থ সুরকার শেষবারের মতো নিজের পিয়ানোর কাছে বসে গান করেন, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা—এক আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্ত।

নতুন হুমকি ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই এলাকায় ম্যাগমার প্রবাহ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে, ফলে আবারও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যদি নতুন ফাটল সৃষ্টি হয়, তাহলে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রযুক্তিই যথেষ্ট নাও হতে পারে।

তবুও কর্মকর্তারা মনে করছেন, লাভা ঠান্ডা করার এই পদ্ধতি কার্যকর ছিল এবং ভবিষ্যতেও এটি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মতে, এই প্রচেষ্টা না থাকলে পুরো শহরই ধ্বংস হয়ে যেত।

Visiting Iceland During a Volcano Eruption: Is It Safe? Can You Go?

মানুষের ইচ্ছাশক্তির জয়
হেলগি হিয়রলেইফসনের কথায়, অনেকেই এই পরিকল্পনাকে পাগলামি বলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, চেষ্টা না করলে কখনো জানা যায় না কী সম্ভব। এই বিশ্বাস আর সাহসিকতাই শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেছে একটি শহরকে।