রাশিয়ার বন্দিদশা থেকে প্রায় চার বছর পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে নিজের কবরের সামনে দাঁড়ালেন ইউক্রেনের সৈনিক নাজার দালেতস্কি। যাকে পরিবার মৃত ভেবে দাফন করেছিল, সেই মানুষই ফিরে এলেন জীবিত—যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতা তুলে ধরেছে এই ঘটনা।
ভুল ডিএনএ শনাক্তকরণে ‘মৃত’ ঘোষণা
২০২২ সালে পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধের সময় রুশ বাহিনীর হাতে আটক হন নাজার দালেতস্কি। এক বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে তার পরিবারকে জানানো হয়, তিনি নিহত হয়েছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার তার দাফন সম্পন্ন করে এবং দীর্ঘ তিন বছর ধরে তার কবরেই শোক পালন করে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি ছিল একটি ভুল শনাক্তকরণ।
বন্দিদশা থেকে প্রত্যাবর্তন
সম্প্রতি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পান দালেতস্কি। দেশে ফেরার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জানান, সরকারি নথিতে তিনি ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
এমনকি তার পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে তাকে মৃত ভেবে জীবনযাপন করেছে। এই পরিস্থিতি তার নিজের কাছেও ছিল শোকাবহ ও বিস্ময়কর।

নিজের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে
বাড়ি ফেরার পর প্রথম দিনই তিনি গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে নিজের কবরের সামনে দাঁড়ান। কবর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু সেই জায়গা তার জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, খুব কম মানুষই নিজের শেষকৃত্য দেখে আবার জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পান।
মায়ের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের মৃত্যু শোক বহন করা তার মায়ের জন্য এই ফিরে আসা ছিল এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত। ফোনে প্রথম কথা বলার সময় তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন এবং বলেন, কতদিন ধরে তিনি এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন।
পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করে।

যুদ্ধের মানবিক সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন, যার ফলে মৃতদেহ শনাক্তকরণে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের মানবিক সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















