প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে সোমবার থেকে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট মোতায়েন করা হবে। ট্রুথ সোশ্যালে রবিবার সকালে তিনি লেখেন, টিএসএ এজেন্টদের সহায়তায় আইসিই বিমানবন্দরে যাবে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে যখন সরকারের আংশিক শাটডাউনে টিএসএ কর্মীরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বেতন ছাড়া কাজ করছেন এবং সারাদেশে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা লাইনে বিলম্ব বাড়ছে।
ট্রাম্প রবিবার সন্ধ্যায় চাপ আরও বাড়িয়ে সিনেট রিপাবলিকানদের নির্দেশ দেন, যতক্ষণ না ডেমোক্র্যাটরা ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ও ভোটকেন্দ্রে ফটো আইডি বাধ্যতামূলক করার বিল সমর্থন করে, ততক্ষণ কোনো চুক্তি করা যাবে না। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা সর্বসম্মতিক্রমে এই বিলের বিরোধিতা করছেন। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চক শুমার এটিকে “জিম ক্রো ২.০” বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে এটি ভোটদান কঠিন করবে। রিপাবলিকানরা ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিনেট নিয়ন্ত্রণ করলেও ফিলিবাস্টার অতিক্রম করতে ৬০ ভোট দরকার, তাই বিলটি পাশ হওয়ার কোনো পথ নেই।

আইসিই এজেন্টরা আসলে কী করবেন?
হোয়াইট হাউসের সীমান্ত জার টম হোমান সিএনএন-কে বলেন, কোন বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্টরা যাবেন এবং ঠিক কী করবেন তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ফক্স নিউজ সানডেতে তিনি বলেন, এক্স-রে স্ক্রিনিং বা বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার এমন কাজে আইসিই এজেন্টদের নিয়োগের পরিকল্পনা নেই। তবে তারা বের হওয়ার দরজা পাহারা দেওয়া বা স্ক্রিনিং এলাকায় ঢোকার আগে যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মতো কাজ করতে পারবেন। তিনি দাবি করেন, এটি টিএসএ কর্মকর্তাদের এক্স-রে স্ক্রিনিংয়ের মতো দক্ষতানির্ভর কাজে ফেরত পাঠাতে সাহায্য করবে এবং আইসিই একটি “ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার” হিসেবে কাজ করবে।
আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকিন্স এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের অপরাধ তদন্তকারী এজেন্ট এবং আটক ও নির্বাসন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এই মোতায়েন অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে নয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প আগের একটি পোস্টে বলেছিলেন আইসিই এজেন্টরা এমন নিরাপত্তা দেবেন যা আগে কেউ দেখেনি, যার মধ্যে দেশে আসা সকল অবৈধ অভিবাসীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার থাকবে, বিশেষভাবে সোমালিয়া থেকে আসাদের ওপর জোর দিয়ে।

বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা
ওবামা প্রশাসনে আইসিই-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জন স্যান্ডওয়েগ বলেন, টিএসএ-তে কর্মী সংকটে সবচেয়ে বড় বিলম্ব হয় এক্স-রে মেশিন, ব্যাগেজ স্ক্রিনিং ও আইডি চেকে, যেগুলো অপ্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া বিপজ্জনক। তিনি বলেন, কার্যক্রমের দিক থেকে এর কোনো ভিত্তি আছে বলে তাঁর মনে হয় না, শাটডাউন শেষ করতে ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপ দিতে আইসিই-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
টিএসএ কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের আঞ্চলিক সহ-সভাপতি জো শুকার বলেন, স্বয়ংক্রিয় প্রস্থান ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বের হওয়ার দরজা পাহারায় এখন কম কর্মী লাগে এবং টিএসএ-র বেশিরভাগ কাজে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা দরকার। আইসিই মোতায়েনকে তিনি খুব একটা সাহায্যকর মনে করেন না।
শুমার সিনেট ফ্লোরে বলেন, এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। যে আইসিই এজেন্টরা অপ্রশিক্ষিত এবং যেখানেই গেছেন সমস্যা তৈরি করেছেন, তারা বিমানবন্দরে ঘোরাফেরা করবেন? এটি বিপদ ডেকে আনা।
ওবামা প্রশাসনে ডিএইচএস-এর সহকারী সচিব জুলিয়েট কায়ইয়েম বলেন, গত কয়েক মাসে আইসিই-কে যে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই মোতায়েন কিছু যাত্রীর মধ্যে “বৈধ ভয়” তৈরি করবে।

শাটডাউনের পটভূমি ও আলোচনার অচলাবস্থা
এক মাসের বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়ন বিল পাশ করতে অস্বীকার করছেন, যতক্ষণ না রিপাবলিকানরা অভিবাসন প্রয়োগকারী এজেন্টদের জবাবদিহিতার নতুন ব্যবস্থায় রাজি হন। ডেমোক্র্যাটরা যেসব পরিবর্তন চাইছেন তার মধ্যে রয়েছে আইসিই এজেন্টদের জোর করে ঘরে ঢোকার আগে বিচারকের পরোয়ানা নেওয়া এবং মুখোশ পরা বন্ধ করা। ট্রাম্প প্রশাসন কিছু দাবি মেনে নিয়েছে, যেমন বডি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো এবং হাসপাতাল, স্কুল ও উপাসনালয়ে বেসামরিক প্রয়োগ কার্যক্রম সীমিত করা।
তবে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। হাউস সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শাটডাউন চলাকালীনও টিএসএ কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার জন্য আলাদা বিল পাশ করতে। তিনি উল্লেখ করেন, রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ ও জন নিলি কেনেডি এই ধরনের ব্যবস্থায় সমর্থন জানিয়েছেন।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই ডিএইচএস-এর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। ট্রাম্প এই মাসে ঘোষণা দিয়েছেন যে সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের স্থলে ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েন মুলিনকে নিয়োগ দেবেন। সিনেট রবিবার তাঁর মনোনয়ন এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে, চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ ভোট সোমবারেই হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















