০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
বিলুপ্তির পথে প্রাণীজগৎ: টিকে থাকার শেষ লড়াই নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সার সংকটে বিপর্যস্ত আমেরিকার কৃষক, বাড়ছে খাদ্যমূল্যের আশঙ্কা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিস্ফোরক পরিস্থিতি, যুদ্ধ থামাতে ‘জয় দেখানোর’ কৌশলে ট্রাম্প চীনে দূষণবিরোধী লড়াই থমকে কেন? অর্থনীতি, আবহাওয়া ও জনচাপ—সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন আফগান নীতি ভাঙনের মুখে পাকিস্তান, ইতিহাসের কঠিন শিক্ষা সামনে জারার বিলাসী রূপান্তর: সস্তা ফ্যাশন থেকে প্রিমিয়াম সাম্রাজ্যে উত্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষায় আমেরিকা, ব্যর্থ হলে কাঁপবে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য আসামে জঙ্গি হামলা: গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণে আহত ৪, পালিয়ে গেল হামলাকারীরা শিশুদের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে রায়, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আড়াই লাখ ভিসা কম, ভারত-চীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিমালার ব্যাপক পরিবর্তনে ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্র আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই লাখ কম ভিসা ইস্যু করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মার্চের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দা ও অস্থায়ী ভিসা মিলিয়ে এই হ্রাসের হার ১১ শতাংশ। এই হিসাবে পর্যটক ভিসা অন্তর্ভুক্ত নয়, যেটিও একই সময়ে কমেছে। শিক্ষার্থী, কর্মী এবং নাগরিক ও বৈধ বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধারণত এই ভিসাগুলো ইস্যু করা হয়।

বেশিরভাগ দেশ থেকে অভিবাসী সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টে অন্তত ৫,০০০ ভিসা অনুমোদিত হয়েছিল এমন ৬১টি দেশের মধ্যে মাত্র সাতটিতে ২০২৫ সালে ভিসা বেড়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যাপক ছাঁটাই শুরু | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ  সংস্থা (বাসস)

ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

ভিসা হ্রাসের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর। এই দুই দেশের জন্য ভিসা প্রায় ৮৪,০০০ কমেছে, যার মূল কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অস্থায়ী ভিসায় বিপুল পতন। আফগানিস্তান ও কিউবার নাগরিকদের ভিসাও তীব্রভাবে কমেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জুনে শুরু হওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রত্যক্ষ ফল। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের ভিসাও ১০,০০০-এর বেশি কমেছে।

১ বছরে 'এক' লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে

বৈধ অভিবাসনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে শিক্ষার্থী ভিসা ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা কঠোরভাবে বাতিল করা হবে। গ্রীষ্মে পররাষ্ট্র দফতর অভিযুক্ত অপরাধ ও ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণের অভিযোগে ৬,০০০ শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করেছে। এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, যা বিদেশি চিকিৎসা রেসিডেন্টদের আমেরিকায় আসতে ব্যবহৃত হয়, সেটিও প্রায় ৩০,০০০ কমেছে।

গাজা যুদ্ধে আয়ারল্যান্ডে পালিয়ে আসা ৩১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ওমর মুসা পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্শাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সির চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু পররাষ্ট্র দফতর তাঁকে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা দিতে অস্বীকার করে, সন্দেহ প্রকাশ করে যে প্রোগ্রাম শেষে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিরে যাবেন কিনা। পরে আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের ভিসা স্থগিত করলে তাঁর স্বপ্ন পুরোপুরি ভেঙে যায়। তিনি বলেন, ২০ হাজার ডলার ও পাঁচ বছরের প্রস্তুতি শুধু এই একটি লক্ষ্যে ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতিতে চাপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভেটিং ও কর্মী সংকট

জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার অধিকাংশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত দেশ। একই সময়ে পররাষ্ট্র দফতর তিন সপ্তাহের জন্য শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত রাখে, তারপর ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।

এরই মধ্যে প্রশাসন পররাষ্ট্র দফতর থেকে হাজার হাজার পদ বিলুপ্ত করতে শুরু করে। কর্মী হ্রাস ও বর্ধিত যাচাই প্রক্রিয়া মিলে কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমে যায় এবং উচ্চ চাহিদার কনস্যুলেটগুলোতে অপেক্ষার সময় বাড়ে।

পারিবারিক ভিসায় মিশ্র চিত্র

পরিবারের সদস্যদের ভিসা সামগ্রিকভাবে কমেছে, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী ও বাগদত্তাদের অস্থায়ী ভিসা। তবে নাগরিকদের উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নিকটাত্মীয়দের, যেমন ছোট সন্তান, বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীর স্থায়ী গ্রিন কার্ড ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও ভাইবোনদের জন্য সীমিত কোটার পারিবারিক ভিসা ২৭ শতাংশের বেশি কমেছে, সংখ্যায় প্রায় ৪৪,০০০।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাব অনুযায়ী অন্তত অর্ধ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো গত বছর যত অভিবাসী আমেরিকায় এসেছেন তার চেয়ে বেশি চলে গেছেন। ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল গত সপ্তাহে উল্লেখ করেছেন যে এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুর্বল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ জেসন ফারম্যান বলেন, মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অভিবাসনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতি নেই। অভিবাসন সীমিত করলে শুধু আজকের শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ভবিষ্যতের উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধিও কমে যায়।

কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্মের মুখপাত্র ইরা মেলম্যান বলেন, ভিসা সীমিত করা শ্রমবাজারে আমেরিকানদের অগ্রাধিকার দিতে সহায়তা করে। বিদেশি কর্মীরা না থাকলে সেই চাকরিগুলো অন্য কর্মীরা পূরণ করবেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চতর বেতনে।

পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ভিসা একটি সুবিধা, অধিকার নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের প্রথমে রাখার অবিসংবাদিত ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলুপ্তির পথে প্রাণীজগৎ: টিকে থাকার শেষ লড়াই নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আড়াই লাখ ভিসা কম, ভারত-চীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে

০৩:২৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিমালার ব্যাপক পরিবর্তনে ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্র আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই লাখ কম ভিসা ইস্যু করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মার্চের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দা ও অস্থায়ী ভিসা মিলিয়ে এই হ্রাসের হার ১১ শতাংশ। এই হিসাবে পর্যটক ভিসা অন্তর্ভুক্ত নয়, যেটিও একই সময়ে কমেছে। শিক্ষার্থী, কর্মী এবং নাগরিক ও বৈধ বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধারণত এই ভিসাগুলো ইস্যু করা হয়।

বেশিরভাগ দেশ থেকে অভিবাসী সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টে অন্তত ৫,০০০ ভিসা অনুমোদিত হয়েছিল এমন ৬১টি দেশের মধ্যে মাত্র সাতটিতে ২০২৫ সালে ভিসা বেড়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যাপক ছাঁটাই শুরু | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ  সংস্থা (বাসস)

ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

ভিসা হ্রাসের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর। এই দুই দেশের জন্য ভিসা প্রায় ৮৪,০০০ কমেছে, যার মূল কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অস্থায়ী ভিসায় বিপুল পতন। আফগানিস্তান ও কিউবার নাগরিকদের ভিসাও তীব্রভাবে কমেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জুনে শুরু হওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রত্যক্ষ ফল। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের ভিসাও ১০,০০০-এর বেশি কমেছে।

১ বছরে 'এক' লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক আঘাতে

বৈধ অভিবাসনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে শিক্ষার্থী ভিসা ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা কঠোরভাবে বাতিল করা হবে। গ্রীষ্মে পররাষ্ট্র দফতর অভিযুক্ত অপরাধ ও ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণের অভিযোগে ৬,০০০ শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করেছে। এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, যা বিদেশি চিকিৎসা রেসিডেন্টদের আমেরিকায় আসতে ব্যবহৃত হয়, সেটিও প্রায় ৩০,০০০ কমেছে।

গাজা যুদ্ধে আয়ারল্যান্ডে পালিয়ে আসা ৩১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ওমর মুসা পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্শাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সির চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু পররাষ্ট্র দফতর তাঁকে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা দিতে অস্বীকার করে, সন্দেহ প্রকাশ করে যে প্রোগ্রাম শেষে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিরে যাবেন কিনা। পরে আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের ভিসা স্থগিত করলে তাঁর স্বপ্ন পুরোপুরি ভেঙে যায়। তিনি বলেন, ২০ হাজার ডলার ও পাঁচ বছরের প্রস্তুতি শুধু এই একটি লক্ষ্যে ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতিতে চাপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভেটিং ও কর্মী সংকট

জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার অধিকাংশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত দেশ। একই সময়ে পররাষ্ট্র দফতর তিন সপ্তাহের জন্য শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত রাখে, তারপর ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।

এরই মধ্যে প্রশাসন পররাষ্ট্র দফতর থেকে হাজার হাজার পদ বিলুপ্ত করতে শুরু করে। কর্মী হ্রাস ও বর্ধিত যাচাই প্রক্রিয়া মিলে কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমে যায় এবং উচ্চ চাহিদার কনস্যুলেটগুলোতে অপেক্ষার সময় বাড়ে।

পারিবারিক ভিসায় মিশ্র চিত্র

পরিবারের সদস্যদের ভিসা সামগ্রিকভাবে কমেছে, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী ও বাগদত্তাদের অস্থায়ী ভিসা। তবে নাগরিকদের উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নিকটাত্মীয়দের, যেমন ছোট সন্তান, বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীর স্থায়ী গ্রিন কার্ড ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও ভাইবোনদের জন্য সীমিত কোটার পারিবারিক ভিসা ২৭ শতাংশের বেশি কমেছে, সংখ্যায় প্রায় ৪৪,০০০।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাব অনুযায়ী অন্তত অর্ধ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো গত বছর যত অভিবাসী আমেরিকায় এসেছেন তার চেয়ে বেশি চলে গেছেন। ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল গত সপ্তাহে উল্লেখ করেছেন যে এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুর্বল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ জেসন ফারম্যান বলেন, মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অভিবাসনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতি নেই। অভিবাসন সীমিত করলে শুধু আজকের শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, ভবিষ্যতের উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধিও কমে যায়।

কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্মের মুখপাত্র ইরা মেলম্যান বলেন, ভিসা সীমিত করা শ্রমবাজারে আমেরিকানদের অগ্রাধিকার দিতে সহায়তা করে। বিদেশি কর্মীরা না থাকলে সেই চাকরিগুলো অন্য কর্মীরা পূরণ করবেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চতর বেতনে।

পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ভিসা একটি সুবিধা, অধিকার নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের প্রথমে রাখার অবিসংবাদিত ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।