বিশ্ব অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। শিশুদের জন্য চালু করা বহুল আলোচিত ফ্রি স্কুল খাবার কর্মসূচিতে কাটছাঁটের পথে হাঁটছে জাকার্তা, একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে কয়লা ও নিকেল রপ্তানি শুল্ক। সরকারের দাবি, বাড়তে থাকা বাজেট চাপ সামাল দিতেই এই ‘কার্যকরী সাশ্রয়’ নীতি নেওয়া হয়েছে।
বাজেট সংকটে কর্মসূচিতে কাটছাঁট
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় পুষ্টি সংস্থা থেকে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব এসেছে, যার ফলে এই কর্মসূচির বাজেটে বড় ধরনের হ্রাস হতে পারে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সাশ্রয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে।

এই সিদ্ধান্তটি আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। মাত্র কয়েকদিন আগেও সরকার জানিয়েছিল, শিশুদের ফ্রি খাবারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচিতে কোনও কাটছাঁট হবে না। কিন্তু দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব, এখন সেই অবস্থান বদলে দিয়েছে।
শনিবারের খাবার বন্ধ
বর্তমানে সপ্তাহে ছয় দিন স্কুলে খাবার সরবরাহ করা হয়, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি খাবার বিতরণ করা হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবারের খাবার সরবরাহ বন্ধ করা হবে। এর ফলে শুধু খাদ্য উপকরণের খরচই নয়, দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া রান্নাঘরের কর্মীদের মজুরিও কমে আসবে।
বিশাল ব্যয়, বড় চাপ

এই কর্মসূচি চলতি বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত। প্রায় ৩৩৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বাড়তে থাকা জ্বালানি ভর্তুকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সরকার জ্বালানির দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন।
ঘাটতির সীমা ও নতুন কৌশল
ইন্দোনেশিয়া তাদের বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম অনুসরণ করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে সরকার এখন রাজস্ব বাড়াতে নতুন পথ খুঁজছে।

কয়লা-নিকেলে শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা
এই প্রেক্ষাপটে কয়লা ও নিকেল রপ্তানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিল্পখাতের মতামত নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফ্রি খাবার কর্মসূচি ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান অংশ। কিন্তু বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা সরকারকে সেই প্রতিশ্রুতি আংশিকভাবে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেসব এলাকায় অপুষ্টির হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাবার বিতরণ চালিয়ে যেতে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















