০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা ভারতের বাজারে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই হোন্ডার, নতুন এসইউভি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বাজি নগরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ: পলাশীর প্রতিরোধের অজানা ইতিহাস ব্যারিকেড, রক্ত আর সাহসের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায় ইসরায়েলের ‘শিরশ্ছেদ’ কৌশলে ফাটল? ইরানে নেতৃত্ব হত্যা বাড়ালেও জোরদার হচ্ছে কঠোরপন্থা বাব আল-মান্দাব প্রণালী দখল সহজ হবে, দাবি হুথিদের ভারতের ডাল আমদানি চুক্তি ৫ বছর বাড়ছে, মিয়ানমারের ওপর নির্ভরতা বাড়ল খার্গ দ্বীপ ঘিরে উত্তেজনা, স্থলযুদ্ধ হলে শত্রুর জন্য ‘ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক’ সতর্কবার্তা ইরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, যুদ্ধ থামাতে ১৫ দফা পরিকল্পনা রাস লাফান হামলায় জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, ভারতের উদ্বেগ তীব্র কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

ব্রেক্সিট নীতিতে বড় মোড়: ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে ব্রিটেন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন হিসাব

ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকের নীতিকে কার্যত ভেঙে দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার পথে হাঁটছে ব্রিটেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কৌশল হবে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বাড়ানো। এই অবস্থান শুধু কূটনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের নতুন হিসাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

UK chancellor heads to Brussels, distracting EU from Trump's 'crazy world'  – POLITICO

ইউরোপেই ভরসা, বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা

ব্রেক্সিটের পর দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে ধারণা ছিল, ইউরোপ ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বাড়িয়ে অর্থনীতি শক্তিশালী করা যাবে। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। রিভসের মতে, ব্রেক্সিটের প্রভাব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং অনেক ব্যবসা ইতিমধ্যে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি মনে করেন, ইউরোপ এখনও ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। ফলে দূরবর্তী বাজারের চেয়ে ভৌগোলিক নিকটতা আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকার এখন কৃষি ও জ্বালানি খাতে ইউরোপের সঙ্গে নতুন সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভূরাজনীতিতে নতুন অবস্থান, মাঝামাঝি থাকার ঝুঁকি

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেন চেষ্টা করেছিল ইউরোপ, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশলকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিভসের ভাষায়, শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোটগুলোর মাঝে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির কারণে ব্রিটেন সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের দিকে ঝুঁকে পড়াই নিরাপদ পথ বলে মনে করছে সরকার।

Britain's chancellor starts a tilt towards Europe

আইনি ও বাজার সমন্বয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নতুন পরিকল্পনায় ইউরোপীয় নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে ইউরোপীয় নিয়ম থেকে দূরে সরে যাওয়াকে লক্ষ্য করা হতো, এখন সেখানে সমন্বয়কেই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে।

তবে পুরোপুরি একক বাজারে ফিরে যাওয়া বা মানুষের অবাধ চলাচল চালুর মতো বিষয়গুলো এখনো সরকার বিবেচনায় আনছে না। একইভাবে ইউরোপে পুনরায় যোগদানের জন্য গণভোটের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়েছে।

রাজনীতির পালাবদল, জনমতও বদলাচ্ছে

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে। একসময় যে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর চাপে এবং ভোট হারানোর আশঙ্কায় সরকার ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।

সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, সামনে কঠিন আলোচনা

তবে এই নতুন কৌশলের পথ সহজ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো স্পষ্ট শর্ত ছাড়া বাজার সুবিধা দিতে রাজি নয়। তারা মনে করে, সুবিধা পেতে হলে দায়িত্বও নিতে হবে।

এছাড়া ব্রিটেনের পক্ষ থেকেও এখনো বিস্তারিত প্রস্তাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা

ব্রেক্সিট নীতিতে বড় মোড়: ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে ব্রিটেন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন হিসাব

০৫:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকের নীতিকে কার্যত ভেঙে দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার পথে হাঁটছে ব্রিটেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কৌশল হবে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বাড়ানো। এই অবস্থান শুধু কূটনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের নতুন হিসাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

UK chancellor heads to Brussels, distracting EU from Trump's 'crazy world'  – POLITICO

ইউরোপেই ভরসা, বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা

ব্রেক্সিটের পর দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে ধারণা ছিল, ইউরোপ ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বাড়িয়ে অর্থনীতি শক্তিশালী করা যাবে। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। রিভসের মতে, ব্রেক্সিটের প্রভাব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং অনেক ব্যবসা ইতিমধ্যে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি মনে করেন, ইউরোপ এখনও ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। ফলে দূরবর্তী বাজারের চেয়ে ভৌগোলিক নিকটতা আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকার এখন কৃষি ও জ্বালানি খাতে ইউরোপের সঙ্গে নতুন সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভূরাজনীতিতে নতুন অবস্থান, মাঝামাঝি থাকার ঝুঁকি

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেন চেষ্টা করেছিল ইউরোপ, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশলকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিভসের ভাষায়, শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোটগুলোর মাঝে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির কারণে ব্রিটেন সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের দিকে ঝুঁকে পড়াই নিরাপদ পথ বলে মনে করছে সরকার।

Britain's chancellor starts a tilt towards Europe

আইনি ও বাজার সমন্বয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নতুন পরিকল্পনায় ইউরোপীয় নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে ইউরোপীয় নিয়ম থেকে দূরে সরে যাওয়াকে লক্ষ্য করা হতো, এখন সেখানে সমন্বয়কেই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে।

তবে পুরোপুরি একক বাজারে ফিরে যাওয়া বা মানুষের অবাধ চলাচল চালুর মতো বিষয়গুলো এখনো সরকার বিবেচনায় আনছে না। একইভাবে ইউরোপে পুনরায় যোগদানের জন্য গণভোটের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়েছে।

রাজনীতির পালাবদল, জনমতও বদলাচ্ছে

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে। একসময় যে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর চাপে এবং ভোট হারানোর আশঙ্কায় সরকার ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।

সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, সামনে কঠিন আলোচনা

তবে এই নতুন কৌশলের পথ সহজ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো স্পষ্ট শর্ত ছাড়া বাজার সুবিধা দিতে রাজি নয়। তারা মনে করে, সুবিধা পেতে হলে দায়িত্বও নিতে হবে।

এছাড়া ব্রিটেনের পক্ষ থেকেও এখনো বিস্তারিত প্রস্তাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।