মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাতার, জর্ডান, ফ্রান্স, ওমান ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক ফোনালাপে তিনি শান্তি ফেরাতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেন এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
সংলাপেই সমাধানের বার্তা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান সংঘাত দ্রুত থামাতে হলে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র পথ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

কাতারের সঙ্গে সংহতি
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সঙ্গে আলাপে মোদি জানান, এই সংকটকালে ভারত কাতারের পাশে রয়েছে। তিনি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। কাতারে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদও জানান তিনি।
জর্ডানের সঙ্গে আলোচনা ও ঈদ শুভেচ্ছা
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয়কে “ভাই” সম্বোধন করে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানান মোদি। তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে জর্ডানের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয়
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনায় মোদি বলেন, উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। ফ্রান্সও এই উদ্যোগে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে।

ওমান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক বার্তা
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে আলাপে মোদি আবারও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও একই বার্তা দেন তিনি এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে, যা ইসরায়েলের আঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মোদির এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সংলাপ ও কূটনীতিকেই সামনে রাখা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















