১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা, নিশ্চিত করল না বেইজিং পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ ঢাকায় আটক

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আসনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

ঘটনার সূচনা
সকাল প্রায় ১০টার দিকে পৌর পাবলিক মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগে জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া ও সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমানসহ নেতারা সামনের সারির সংরক্ষিত আসনের এক পাশে বসেন।

পরে সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল আলম তালুকদার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে তার স্ত্রী সালমা আলমসহ সামনের সারির অন্য পাশে আসন গ্রহণ করেন।

সংঘর্ষের কারণ
সামনের সারিতে আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বসার জায়গা পাননি। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন।

এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
প্রথম দফার সংঘর্ষের সময় পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কর্মীরা সামনের সারির সব আসন দখল করে নেয় এবং আসন ছাড়তে বললে তাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরাই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য
পুলিশ জানায়, আসন ব্যবস্থা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা দুঃখজনক। আগে থেকেই সমন্বয় থাকলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

একই দিনে আরেক উত্তেজনা
এদিন সকালে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরেক দফা উত্তেজনা দেখা দেয়। জামিয়াতে উলামার নেতা আবদুল্লাহ হক কাওসারীর বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানকার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মোটের ওপর, দিনটি উত্তেজনাপূর্ণভাবে শুরু হলেও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

০৮:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আসনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

ঘটনার সূচনা
সকাল প্রায় ১০টার দিকে পৌর পাবলিক মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগে জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া ও সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমানসহ নেতারা সামনের সারির সংরক্ষিত আসনের এক পাশে বসেন।

পরে সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল আলম তালুকদার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে তার স্ত্রী সালমা আলমসহ সামনের সারির অন্য পাশে আসন গ্রহণ করেন।

সংঘর্ষের কারণ
সামনের সারিতে আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বসার জায়গা পাননি। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন।

এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
প্রথম দফার সংঘর্ষের সময় পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কর্মীরা সামনের সারির সব আসন দখল করে নেয় এবং আসন ছাড়তে বললে তাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরাই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য
পুলিশ জানায়, আসন ব্যবস্থা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা দুঃখজনক। আগে থেকেই সমন্বয় থাকলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

একই দিনে আরেক উত্তেজনা
এদিন সকালে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরেক দফা উত্তেজনা দেখা দেয়। জামিয়াতে উলামার নেতা আবদুল্লাহ হক কাওসারীর বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানকার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মোটের ওপর, দিনটি উত্তেজনাপূর্ণভাবে শুরু হলেও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।