বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত। মিয়ানমার থেকে ডাল আমদানির বিদ্যমান চুক্তি আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পর বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত এক লাখ টন তুর ডাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত ও অস্থিরতায় জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব খাদ্য ব্যবস্থাতেও পড়ছে। ফলে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ডাল আমদানি নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত।
আগের চুক্তির প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের জুনে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে উড়াদ ও তুর ডালের বাণিজ্য বাড়াতে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচ বছরে প্রতিবছর ২.৫ লাখ টন উড়াদ এবং ১ লাখ টন তুর ডাল আমদানি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি মার্চের শেষে।

উৎপাদন কমছে, বাড়ছে আমদানির প্রয়োজন
ভারতে ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৮ থেকে ২৯ মিলিয়ন টন হলেও গত কয়েক বছরে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৪ থেকে ২৫ মিলিয়ন টনের মধ্যে। ফলে ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুর ডালের উৎপাদন কমে ৩.৪৫ মিলিয়ন টনে নামতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। একইভাবে উড়াদ ডালের উৎপাদনও কমে ১.৭৪ মিলিয়ন টনে দাঁড়াতে পারে।
মিয়ানমারের গুরুত্ব বাড়ছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ভারতের অন্যতম প্রধান ডাল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত মিয়ানমার থেকে ৩.৩২ লাখ টন তুর ডাল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















