মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ঘিরে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও বাস্তবে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তেল সরবরাহে ধাক্কা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বন্দ্বপূর্ণ অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের নেতারা একটি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না, যদিও বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত করে তুলছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ যে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়, সেটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিমান পরিবহন থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহ—সবখানেই ব্যয় বেড়েছে। কৃষক ও জেলেরা ডিজেলের সংকটে পড়েছেন, যা খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
খাদ্য ও মানবিক সংকটের আশঙ্কা
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কোটি কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।

তেলের দাম বাড়ছে, শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতির আশায় কিছু সময়ের জন্য বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেলেও তা দ্রুত মিলিয়ে গেছে। আবারও তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ফিরে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
সংঘাত বাড়ার শঙ্কা, কূটনীতির আহ্বান
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাই সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সেই পথ এখনও কঠিন হয়ে আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















