সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাল ও গম সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার নিচে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, অনুমান ও বাস্তব সংগ্রহের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হয়ে উঠছে।

লক্ষ্যমাত্রার নিচে ধারাবাহিক সংগ্রহ
কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাল ও গম সংগ্রহ ধারাবাহিকভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। বিশেষ করে বিহার, গুজরাট, পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশে সংগ্রহ পরিস্থিতি আরও দুর্বল। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে মোট উৎপাদনের তুলনায় গম ও চাল সংগ্রহ ৩০ শতাংশেরও কম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গম সংগ্রহ ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ সালে অনুমানের তুলনায় যথাক্রমে ৭৬.৭১ শতাংশ, ৭১.৩৫ শতাংশ ও ৮৭.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একইভাবে চাল সংগ্রহও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক চিত্রে উদ্বেগ
খরিফ মৌসুমে অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক ও পাঞ্জাবে চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। একইভাবে রবি মৌসুমে বিহার, গুজরাট, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে গম সংগ্রহেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিভিন্ন রাজ্যে সংগ্রহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে।

কারণ হিসেবে বহুমাত্রিক প্রভাব
সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, উৎপাদনের ওঠানামা, বাজারে উদ্বৃত্ত শস্যের পরিমাণ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, বাজারদর, চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য এবং বেসরকারি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ—এসব কারণ সংগ্রহে প্রভাব ফেলছে।
তবে কমিটি মনে করছে, এই কারণগুলো থাকলেও ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া একটি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
পরিকল্পনা ও সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ
কমিটি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে সংগ্রহ পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা, বাস্তবসময়ের তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং বাজারে শস্য আগমনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব রাজ্যে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বড় বিচ্যুতি ঘটছে, সেখানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে কমিটি। তারা সরকারের কাছে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতেও বলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















