০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
উপসাগরীয় তেল সংকট সরকারগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি উন্মোচন করছে লাল রঙের শক্তি: শিল্পের ইতিহাসে এক রঙের বিস্ময় বিদেশে নতুন জীবন, ক্যামেরায় গল্প: ফিলিপিনো নারীদের ভাইরাল যাত্রা ও ভাঙছে পুরনো ধারণা সাংহাইয়ে বয়স্কদের কাজে ফেরানোর উদ্যোগ, জনসংখ্যা সংকটে নতুন পথ খুঁজছে চীন আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ: আমার প্রিয় আশা দিদি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ফিরছে লাখো অভিবাসী শ্রমিক ভেনেজুয়েলা: মাদুরো-পরবর্তী পরিবর্তনের আশাবাদ, বাস্তবতায় রয়ে গেছে বড় অনিশ্চয়তা জ্বালানি সংকটে অ-ভর্তুকিযুক্ত তেলের দাম হঠাৎ লাফিয়ে বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চাপে বাড়ছে উদ্বেগ কাতার: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মাঝে আটকে পড়া এক অর্থনৈতিক ধাক্কার গল্প জ্বালানি সংকটে সরকারের দেরি নিয়ে সংসদে তোপ, দীর্ঘ লাইনের চিত্র তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা

ঈদহীন উপকূল: টেকনাফে শতাধিক জেলে নিখোঁজ, অর্ধলক্ষ পরিবারে বেঁচে থাকার লড়াই

স্বামী বেঁচে আছেন কি না জানা নেই, ঘরে নেই ঈদের আনন্দ—টেকনাফের উপকূলজুড়ে এখন এমনই এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতা। সীমান্তের ওপার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপহরণ, গুলিবর্ষণ ও সংঘাতের কারণে শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ বা আটকে রয়েছেন। ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নিখোঁজ স্বামী, থমকে থাকা সংসার
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায় গেলে দেখা যায়, ভাঙাচোরা টিনের ঘর আর নিস্তব্ধতা। শিশু কোলে নিয়ে বসে থাকা নারীদের চোখে শুধু অপেক্ষা আর কান্না। বহু নারী জানেন না তাঁদের স্বামীরা জীবিত না মৃত। কোনো যোগাযোগ নেই, কোনো খবর নেই। ঈদের দিনেও রান্না হয়নি, নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকের দুই বেলা খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন গৃহবধূ জানান, স্বামীর আয়েই সংসার চলত। এখন তিনি কোথায়, বেঁচে আছেন কি না—কিছুই জানা নেই। এই অনিশ্চয়তায় ঈদের আনন্দ তো দূরে থাক, স্বাভাবিক জীবনই থেমে গেছে।

অপহরণ আর ভয়ের ছায়া
নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে একের পর এক জেলে অপহরণের শিকার হচ্ছেন। একই পাড়ার একাধিক জেলে কয়েক দফায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারও এক মাস, কারও দেড় মাস ধরে কোনো খোঁজ নেই। পরিবারগুলো শুধু অপেক্ষা করছে, কোনো একদিন হয়তো ফিরে আসবেন প্রিয়জন।

স্থানীয়দের মতে, গত দেড় বছরে কয়েক শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেককে ফিরিয়ে আনা গেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় আটক রয়েছেন।

যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে
নাফ নদীর ওপারে সংঘাতের আগুন জ্বলছে, যার প্রভাব পড়ছে এপারের জীবনেও। প্রায়ই শোনা যায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ। কখনো কখনো গুলিও এসে পড়ছে এপারে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণেও আহত হয়েছেন জেলেরা।

এই পরিস্থিতিতে নদীতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকাগুলো ঘাটে পড়ে আছে, নদী হয়ে উঠেছে জনশূন্য। ফলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

জীবিকার সংকটে হাজারো পরিবার
শাহপরীর দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই মৎস্যজীবী। কিন্তু ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অন্তত ত্রিশ হাজার জেলে পরিবার জীবিকা হারিয়েছে। অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঈদের মতো উৎসবও তাদের কাছে কেবল দুঃখের স্মৃতি হয়ে থাকছে।

ফেরানোর চেষ্টা, তবু অনিশ্চয়তা
সীমান্তরক্ষী বাহিনী অপহৃত জেলেদের ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় অনেককে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো বহু জেলে আটকে থাকায় পরিবারের উৎকণ্ঠা কাটছে না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্তে শান্তি ফিরুক, নিরাপদে নদীতে নামতে পারুক জেলেরা, আর পরিবারগুলো ফিরে পাক তাদের হারানো স্বাভাবিক জীবন।

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় তেল সংকট সরকারগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি উন্মোচন করছে

ঈদহীন উপকূল: টেকনাফে শতাধিক জেলে নিখোঁজ, অর্ধলক্ষ পরিবারে বেঁচে থাকার লড়াই

০৫:৩১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

স্বামী বেঁচে আছেন কি না জানা নেই, ঘরে নেই ঈদের আনন্দ—টেকনাফের উপকূলজুড়ে এখন এমনই এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতা। সীমান্তের ওপার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপহরণ, গুলিবর্ষণ ও সংঘাতের কারণে শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ বা আটকে রয়েছেন। ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নিখোঁজ স্বামী, থমকে থাকা সংসার
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায় গেলে দেখা যায়, ভাঙাচোরা টিনের ঘর আর নিস্তব্ধতা। শিশু কোলে নিয়ে বসে থাকা নারীদের চোখে শুধু অপেক্ষা আর কান্না। বহু নারী জানেন না তাঁদের স্বামীরা জীবিত না মৃত। কোনো যোগাযোগ নেই, কোনো খবর নেই। ঈদের দিনেও রান্না হয়নি, নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকের দুই বেলা খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন গৃহবধূ জানান, স্বামীর আয়েই সংসার চলত। এখন তিনি কোথায়, বেঁচে আছেন কি না—কিছুই জানা নেই। এই অনিশ্চয়তায় ঈদের আনন্দ তো দূরে থাক, স্বাভাবিক জীবনই থেমে গেছে।

অপহরণ আর ভয়ের ছায়া
নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে একের পর এক জেলে অপহরণের শিকার হচ্ছেন। একই পাড়ার একাধিক জেলে কয়েক দফায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারও এক মাস, কারও দেড় মাস ধরে কোনো খোঁজ নেই। পরিবারগুলো শুধু অপেক্ষা করছে, কোনো একদিন হয়তো ফিরে আসবেন প্রিয়জন।

স্থানীয়দের মতে, গত দেড় বছরে কয়েক শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেককে ফিরিয়ে আনা গেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় আটক রয়েছেন।

যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে
নাফ নদীর ওপারে সংঘাতের আগুন জ্বলছে, যার প্রভাব পড়ছে এপারের জীবনেও। প্রায়ই শোনা যায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ। কখনো কখনো গুলিও এসে পড়ছে এপারে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণেও আহত হয়েছেন জেলেরা।

এই পরিস্থিতিতে নদীতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকাগুলো ঘাটে পড়ে আছে, নদী হয়ে উঠেছে জনশূন্য। ফলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

জীবিকার সংকটে হাজারো পরিবার
শাহপরীর দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই মৎস্যজীবী। কিন্তু ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অন্তত ত্রিশ হাজার জেলে পরিবার জীবিকা হারিয়েছে। অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঈদের মতো উৎসবও তাদের কাছে কেবল দুঃখের স্মৃতি হয়ে থাকছে।

ফেরানোর চেষ্টা, তবু অনিশ্চয়তা
সীমান্তরক্ষী বাহিনী অপহৃত জেলেদের ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় অনেককে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো বহু জেলে আটকে থাকায় পরিবারের উৎকণ্ঠা কাটছে না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্তে শান্তি ফিরুক, নিরাপদে নদীতে নামতে পারুক জেলেরা, আর পরিবারগুলো ফিরে পাক তাদের হারানো স্বাভাবিক জীবন।