চীনে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে একসময় যে তীব্র অভিযান শুরু হয়েছিল, তার গতি এখন ধীরে আসছে। দীর্ঘদিনের কঠোর উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রগতি আর আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, কেন থেমে যাচ্ছে এই লড়াই।
দূষণ কমার গতি কেন কমছে
গত দশকে চীনে বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রে বড় সাফল্য দেখা গেছে। একসময় ঘন ধোঁয়ায় ঢাকা থাকত শহরগুলো, কিন্তু এখন অনেক দিনই আকাশ পরিষ্কার থাকে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে দূষণের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি দ্রুত হয়।
তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সূক্ষ্ম দূষণ কণার মাত্রা দ্রুত কমলেও ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেই কমার হার অনেকটাই কমে গেছে। অর্থাৎ শুরুতে সহজ যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ফল পাওয়া গেলেও এখন কঠিন ধাপে এসে গতি কমে গেছে।

সহজ পদক্ষেপ শেষ, এখন কঠিন সময়
প্রথমদিকে কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রযুক্তি বসিয়ে দূষণ কমানো তুলনামূলক সহজ ছিল। কিন্তু এখন দূষণ পুরোপুরি কমাতে হলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার ধরনই বদলাতে হবে। যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে বিদ্যুৎনির্ভর পরিবহন বাড়ানো, যা বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব
দূষণের মাত্রা শুধু নীতির ওপর নির্ভর করে না, আবহাওয়াও বড় ভূমিকা রাখে। কোনো বছরে বৃষ্টি বা বাতাস বেশি হলে দূষণ কমে যায়। আবার ধুলিঝড় বা দাবানল বাড়লে দূষণ হঠাৎ বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জনচাপ কমায় শিথিলতা
একসময় তীব্র দূষণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল, যা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। কিন্তু এখন দূষণ কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসায় সেই চাপ কমে গেছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে আগের মতো কঠোরতা দেখাচ্ছে না, যার ফলে অগ্রগতি থমকে যাচ্ছে।
নতুন মান নির্ধারণ ও চ্যালেঞ্জ
চীন এখন আবার দূষণের মান আরও কমানোর পরিকল্পনা করছে। নির্ধারিত সীমা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় এই সীমা এখনও অনেক বেশি। বড় শহরগুলোতে দূষণ এখনও স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অর্থনীতি বনাম স্বাস্থ্য—কঠিন ভারসাম্য
দূষণ দ্রুত কমাতে গেলে শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ পড়তে পারে। ফলে সরকারকে একদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বই চীনের দূষণবিরোধী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















