০৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

ভোটাধিকার নাকি ‘সুযোগ’? ট্রাম্পের নতুন অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার নয়, বরং ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবস্থান এবং নতুন আইন প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

ঐতিহাসিক রায় থেকে বর্তমান বিতর্ক

ষাট বছর আগে এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ভোট দিতে অর্থ নেওয়ার প্রথা বাতিল করে দেয়। সেই রায়ে বলা হয়, ভোটাধিকার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটিকে কোনো শর্ত বা বাধার মধ্যে ফেলা যায় না। সেই সময় ভার্জিনিয়ার এক সাধারণ নারী অ্যানি হারপার ভোট দিতে গিয়ে অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন, যা শেষ পর্যন্ত বড় পরিবর্তন আনে।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও ভোটাধিকার নিয়ে নতুন শর্ত আরোপের আলোচনা সামনে এসেছে।

From insurrection to paralysis: The US Congress faces further humiliation |  ITV News

নতুন আইন ও কঠোর শর্তের প্রস্তাব

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি নতুন আইন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পরিচয়পত্র সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেখানো বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। সমর্থকদের দাবি, এটি অবৈধ ভোট রোধ করবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এমন কঠোর শর্ত বাস্তবে অনেক বৈধ ভোটারকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ভোট দেওয়া একটি অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। তার মতে, নতুন আইন প্রণয়ন রাজনৈতিকভাবে নির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এই মন্তব্যই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন

Iran War | US President Donald Trump says, negotiators from Iran 'begging'  for US deal to end war dgtl - Anandabazar

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নতুন নিয়ম চালু হলে তরুণ ভোটার, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠী, গ্রামীণ বাসিন্দা এবং কম শিক্ষিত নাগরিকরা বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি রাজনৈতিকভাবে যাদের সমর্থন ট্রাম্প পেয়েছেন, তারাও এই নিয়মের কারণে প্রভাবিত হতে পারেন।

এতে ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গণতন্ত্রের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশের গণতন্ত্রকে বোঝা যায় সেই দেশে কারা ভোট দিতে পারে এবং কী শর্তে ভোট দিতে পারে তার মাধ্যমে। ইতিহাস বলছে, যখন ভোটাধিকার বিস্তৃত হয়েছে, তখন গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়েছে। আর যখন তা সীমিত হয়েছে, তখন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে অল্প কয়েকজনের হাতে।

বর্তমান প্রস্তাব সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে—গণতন্ত্র কি সবার জন্য, নাকি কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষের জন্য?

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

ভোটাধিকার নাকি ‘সুযোগ’? ট্রাম্পের নতুন অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে তীব্র বিতর্ক

০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার নয়, বরং ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবস্থান এবং নতুন আইন প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

ঐতিহাসিক রায় থেকে বর্তমান বিতর্ক

ষাট বছর আগে এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ভোট দিতে অর্থ নেওয়ার প্রথা বাতিল করে দেয়। সেই রায়ে বলা হয়, ভোটাধিকার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটিকে কোনো শর্ত বা বাধার মধ্যে ফেলা যায় না। সেই সময় ভার্জিনিয়ার এক সাধারণ নারী অ্যানি হারপার ভোট দিতে গিয়ে অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন, যা শেষ পর্যন্ত বড় পরিবর্তন আনে।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও ভোটাধিকার নিয়ে নতুন শর্ত আরোপের আলোচনা সামনে এসেছে।

From insurrection to paralysis: The US Congress faces further humiliation |  ITV News

নতুন আইন ও কঠোর শর্তের প্রস্তাব

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি নতুন আইন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পরিচয়পত্র সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেখানো বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। সমর্থকদের দাবি, এটি অবৈধ ভোট রোধ করবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এমন কঠোর শর্ত বাস্তবে অনেক বৈধ ভোটারকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ভোট দেওয়া একটি অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। তার মতে, নতুন আইন প্রণয়ন রাজনৈতিকভাবে নির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এই মন্তব্যই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন

Iran War | US President Donald Trump says, negotiators from Iran 'begging'  for US deal to end war dgtl - Anandabazar

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নতুন নিয়ম চালু হলে তরুণ ভোটার, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠী, গ্রামীণ বাসিন্দা এবং কম শিক্ষিত নাগরিকরা বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি রাজনৈতিকভাবে যাদের সমর্থন ট্রাম্প পেয়েছেন, তারাও এই নিয়মের কারণে প্রভাবিত হতে পারেন।

এতে ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গণতন্ত্রের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশের গণতন্ত্রকে বোঝা যায় সেই দেশে কারা ভোট দিতে পারে এবং কী শর্তে ভোট দিতে পারে তার মাধ্যমে। ইতিহাস বলছে, যখন ভোটাধিকার বিস্তৃত হয়েছে, তখন গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়েছে। আর যখন তা সীমিত হয়েছে, তখন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে অল্প কয়েকজনের হাতে।

বর্তমান প্রস্তাব সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে—গণতন্ত্র কি সবার জন্য, নাকি কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষের জন্য?