ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ এশিয়ার অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়া এবং প্লাস্টিকসহ নানা কাঁচামালের ঘাটতি মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য থেকে শুরু করে পোশাক, খেলনা, প্রসাধনী—প্রায় সব পণ্যের ওপর।
সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যেখানে দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ অঞ্চলটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও কাঁচামালের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশেষ করে ন্যাফথার মতো তেলজাত উপাদানের ঘাটতি মারাত্মক আকার নিয়েছে, যা প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উৎপাদন খাতে চাপ বাড়ছে এবং অনেক কারখানাই উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
শিল্পখাতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্লাস্টিক উৎপাদন কারখানার ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, কাঁচামালের দাম কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন স্বাভাবিকের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি কারখানায় সীমাবদ্ধ নয়। খেলনা, টায়ার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন শিল্পে একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। চীনে সিন্থেটিক রাবারের উৎপাদনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
দৈনন্দিন পণ্যের দাম বাড়ছে
সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্লাস্টিক ও রাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের প্যাকেজিং থেকে শুরু করে পানির বোতল পর্যন্ত সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ভারতে বোতলজাত পানির দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে।
জাপানে কিছু খাদ্যপণ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জ্বালানির ঘাটতির কারণে। একইসঙ্গে পোশাক ও গৃহস্থালি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ব্যবসা ও বাজারে অনিশ্চয়তা

বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানই বলছে, যদি কাঁচামাল না থাকে, তাহলে দাম বাড়ালেও উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে না।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার ফলে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন, বিমান, উৎপাদন ও খুচরা ব্যবসায়। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ভোক্তাদের ওপরও চাপ বাড়ছে।
সংকট কতদূর গড়াবে
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সংকট আরও তীব্র হবে। সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি একসঙ্গে চলতে থাকলে এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প ও ভোক্তা—দু’পক্ষই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন কেবল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















