০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপ জিতল জাপান, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে বড় পতন, বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ ঘোষণা করল জাতিসংঘ ইরানের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরায়েলে আতঙ্ক—তবে হতাহতের খবর নেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের ১২০ সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত নারীর উত্থানে বদলে যাচ্ছে ভারতীয় সিনেমা, তবু সুযোগে ঘাটতির অভিযোগ জি৭ বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐক্য খোঁজ, ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার ছায়া বড়দিনেই ফিরছে জাদুর দুনিয়া: নতুন হ্যারি পটার সিরিজে চমক, প্রকাশ পেল টিজার ও মুক্তির দিন ইরানের ‘ডিজিটাল বাহিনী’: ৪ লাখ বট দিয়ে সত্যের ওপর আঘাত, যুদ্ধ এখন অনলাইনের মঞ্চে উপসাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কুয়েতের শুওয়াইক বন্দরেও আঘাত

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক থামছে না কেন

কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল–শেখ মুজিব; না জিয়াউর রহমান– এই আলোচনা গত প্রায় ৪০ বছর থেকে শুনছি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে জাতির জনকের মর্মান্তিক প্রস্তানের আগে এটা কোন ইস্যু ছিল না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, সীমাহীন লুটপাট, গণতন্ত্র হত্যা, একদলীয় শাসন কায়েম এবং বিরোধী মতকে জোরপূর্বক দমন ছিল সেই সময়ের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
ফলে আওয়ামী সরকারের পতনের পর যারা ক্ষমতাসীন হন, বিশেষ করে জেনারেল জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা সেটাকে পুঁজি করে দেশে নতুন রাজনীতি শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিবের অবদানকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা নতুন অধিষ্ঠিত হয়েছে তাদের গুণকীর্তন করা। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ঘোষণা ইস্যু পরবর্তীতে প্রমিনেন্স পায়।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন থাকাকালীন সময় তিনি নিজে কখনো এই দাবি করেননি। শুধু তাই না, তার দলের অন্যান্য যারা ছিল তাদের মুখেও কোনদিন এটা শুনিনি। এই বিতর্ক শুরু হয় মূলত ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর থেকে। ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার দল বিএনপিকে ম্যালাইন করার প্রচেষ্টা শুরু করে তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল এরশাদ। বিএনপি তখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। এর মধ্যে একটি ছিল জেনারেল জিয়াকে স্বাধীনতার মূল কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং তাকে ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী হিসেবে প্রচার করা। তার আরেকটি প্লাস পয়েন্ট ছিল তিনি ছিলেন আর্থিকভাবে সৎ। এসবই বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
আবার আসি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে।
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট জাতির জনকের নিহত হবার ঘটনার সাক্ষী অনেকের মত আমিও। ইতিহাস পড়ে এগুলো আমাদের জানতে হয়নি। আমার স্মৃতিতে ঘটনাগুলো এখনো উজ্জ্বল। তার একটি নির্মোহ বিবরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
১৯৭১ সালের মার্চে আমি যশোর কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ি। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে আমরা সবাই ভেবেছিলাম শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন; তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানও প্রকাশ্যে সেটা বলেছিলেন ঢাকায় এসে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেটা হতে দেয়নি।
৭ মার্চের ভাষণ কে লিখেছিলেন
১৯৭১ এর ৭ই মার্চ শেখ মুজিবের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আমি নিজে কানে শুনেছি। সত্যি কথা বলতে কি অনেকের মত আমিও তখন ভেবেছিলাম পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা আর থাকতে পারবো না এবং আমাদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া দরকার। আর সে কারণেই শেখ মুজিবের উদাত্ত আহবানে আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
সাত মার্চের পর থেকে শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনার নাম করে ইয়াহিয়া খান একের পর এক বৈঠক শুরু করেন। এটা ছিল তাদের কুটকৌশল। কেননা এই আলোচনা চলাকালীন সময়ে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র আনতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় ২৫ শে মার্চের ক্র্যাক ডাউন। (মার্চের প্রথম দিকে আমি যশোর থেকে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি)।
২৫ থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত কোন খবর পাচ্ছিলাম না, বিশেষ করে শেখ মুজিব কোথায়; তিনি জীবিত আছেন কিনা এর কোন কিছুই জানিনা। চতুর্দিকে একটা থমথমে অবস্থা; অনিশ্চয়তা এবং ভীতি আমাদেরকে গ্রাস করে।
২৭ মার্চ সকাল দশটা বা সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ রেডিওতে শুনতে পাই, “আমি মেজর জিয়া বলছি; আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি”। এটা শোনার পর ভীষণভাবে উজ্জীবিত হই এবং তখন মনে হয় যে আমরা হয়তো স্বাধীন হতে পারব, কেননা বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করেছে।
তবে তৎকালীন মেজর জিয়া শেখ মুজিবের নামে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা সেটা আমার মনে নেই। সত্যি কথা বলতে কি তিনি শেখ মুজিবের নাম নিয়েছিলেন কিনা বা নিজেই ঘোষণা করেছিলেন এটা ইম্ম্যাটেরিয়াল। কারণ মেজর জিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন সেনা কর্মকর্তা। আর শেখ মুজিব পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি থাকলেও তার নামেই মুক্তি যুদ্ধ হয়েছে। এই সত্যকে অস্বীকার করার অর্থ হল ইতিহাস বিকৃত করা।
যেমনটা আগেই বলেছি, মেজর জিয়া নিজে বা শেখ মুজিবের নামে ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা সেটা কোন বড় কথা নয়। বাস্তবতা হলো শেখ মুজিব ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নায়ক। সেটা প্রমাণ হয়েছিল ১৯৭২ সালের দশই জানুয়ারি নয় মাস কারাবন্দি থাকার পর পাকিস্তান থেকে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্সে এসে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে যখন বক্তৃতা করেছিলেন সেটা শুনে আমি কাঁদতে শুরু করি।
রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্থান
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জাতির জনক এই ভালোবাসা এবং সম্মান ধরে রাখতে পারেননি। তার করুন পরিণতি সেটাই প্রমাণ করে।
এই পোস্ট শেষ করছি এই বলে যে স্বাধীনতার ঘোষক কে ছিলেন এই আলোচনা বা বিতর্ক সম্পূর্ণ সময়ের অপচয় বলে মনে হয়। একটা বিশেষ গোষ্ঠী এটাকে পুঁজি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সত্যিকারের দেশ প্রেমিক এবং দেশের যারা মঙ্গল চায় তাদের মত আমিও চাই এই বিতর্কের অবসান হোক চিরতরে। এই বিতর্কে সাধারণ মানুষ কিভাবে উপকৃত হচ্ছে সেটা আমার মাথায় আসে না।
একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটাকে পুঁজি করে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করে দেশকে আরো পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ, আপনি এই বিতর্কে ঘি না ঢেলে দেশ কিভাবে সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে পারে সেটা নিয়ে কাজ করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো; দুর্নীতি রোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, যেখানে অসহায় দুর্বল জনগণও মনে করে তাদের উপর অন্যায় করে কেউ পার পেয়ে যাবে না, সে যত বড় প্রভাবশালী বা ধনী হোক না কেন।
রাজনৈতিক মত বিরোধ থাকলেও এই বিশাল কাজে আপনাকে দেশের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। এদের মধ্যে হাসিনা লীগ বাদে আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ এবং দেশ প্রেমিকরা; সেই সঙ্গে থাকবে জামাতে ইসলামীও।
তারেক রহমানকে আরও একটা কথা বলবো, আপনি নেতা না হয়ে স্টেটসম্যান হওয়ার চেষ্টা করেন।
(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)
জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপ জিতল জাপান, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক থামছে না কেন

০৫:২৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল–শেখ মুজিব; না জিয়াউর রহমান– এই আলোচনা গত প্রায় ৪০ বছর থেকে শুনছি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে জাতির জনকের মর্মান্তিক প্রস্তানের আগে এটা কোন ইস্যু ছিল না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, সীমাহীন লুটপাট, গণতন্ত্র হত্যা, একদলীয় শাসন কায়েম এবং বিরোধী মতকে জোরপূর্বক দমন ছিল সেই সময়ের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
ফলে আওয়ামী সরকারের পতনের পর যারা ক্ষমতাসীন হন, বিশেষ করে জেনারেল জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা সেটাকে পুঁজি করে দেশে নতুন রাজনীতি শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিবের অবদানকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা নতুন অধিষ্ঠিত হয়েছে তাদের গুণকীর্তন করা। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ঘোষণা ইস্যু পরবর্তীতে প্রমিনেন্স পায়।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন থাকাকালীন সময় তিনি নিজে কখনো এই দাবি করেননি। শুধু তাই না, তার দলের অন্যান্য যারা ছিল তাদের মুখেও কোনদিন এটা শুনিনি। এই বিতর্ক শুরু হয় মূলত ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর থেকে। ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার দল বিএনপিকে ম্যালাইন করার প্রচেষ্টা শুরু করে তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল এরশাদ। বিএনপি তখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। এর মধ্যে একটি ছিল জেনারেল জিয়াকে স্বাধীনতার মূল কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং তাকে ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী হিসেবে প্রচার করা। তার আরেকটি প্লাস পয়েন্ট ছিল তিনি ছিলেন আর্থিকভাবে সৎ। এসবই বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
আবার আসি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে।
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট জাতির জনকের নিহত হবার ঘটনার সাক্ষী অনেকের মত আমিও। ইতিহাস পড়ে এগুলো আমাদের জানতে হয়নি। আমার স্মৃতিতে ঘটনাগুলো এখনো উজ্জ্বল। তার একটি নির্মোহ বিবরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
১৯৭১ সালের মার্চে আমি যশোর কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ি। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে আমরা সবাই ভেবেছিলাম শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন; তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানও প্রকাশ্যে সেটা বলেছিলেন ঢাকায় এসে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেটা হতে দেয়নি।
৭ মার্চের ভাষণ কে লিখেছিলেন
১৯৭১ এর ৭ই মার্চ শেখ মুজিবের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আমি নিজে কানে শুনেছি। সত্যি কথা বলতে কি অনেকের মত আমিও তখন ভেবেছিলাম পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা আর থাকতে পারবো না এবং আমাদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া দরকার। আর সে কারণেই শেখ মুজিবের উদাত্ত আহবানে আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
সাত মার্চের পর থেকে শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনার নাম করে ইয়াহিয়া খান একের পর এক বৈঠক শুরু করেন। এটা ছিল তাদের কুটকৌশল। কেননা এই আলোচনা চলাকালীন সময়ে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র আনতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় ২৫ শে মার্চের ক্র্যাক ডাউন। (মার্চের প্রথম দিকে আমি যশোর থেকে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি)।
২৫ থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত কোন খবর পাচ্ছিলাম না, বিশেষ করে শেখ মুজিব কোথায়; তিনি জীবিত আছেন কিনা এর কোন কিছুই জানিনা। চতুর্দিকে একটা থমথমে অবস্থা; অনিশ্চয়তা এবং ভীতি আমাদেরকে গ্রাস করে।
২৭ মার্চ সকাল দশটা বা সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ রেডিওতে শুনতে পাই, “আমি মেজর জিয়া বলছি; আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি”। এটা শোনার পর ভীষণভাবে উজ্জীবিত হই এবং তখন মনে হয় যে আমরা হয়তো স্বাধীন হতে পারব, কেননা বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করেছে।
তবে তৎকালীন মেজর জিয়া শেখ মুজিবের নামে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা সেটা আমার মনে নেই। সত্যি কথা বলতে কি তিনি শেখ মুজিবের নাম নিয়েছিলেন কিনা বা নিজেই ঘোষণা করেছিলেন এটা ইম্ম্যাটেরিয়াল। কারণ মেজর জিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন সেনা কর্মকর্তা। আর শেখ মুজিব পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি থাকলেও তার নামেই মুক্তি যুদ্ধ হয়েছে। এই সত্যকে অস্বীকার করার অর্থ হল ইতিহাস বিকৃত করা।
যেমনটা আগেই বলেছি, মেজর জিয়া নিজে বা শেখ মুজিবের নামে ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা সেটা কোন বড় কথা নয়। বাস্তবতা হলো শেখ মুজিব ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নায়ক। সেটা প্রমাণ হয়েছিল ১৯৭২ সালের দশই জানুয়ারি নয় মাস কারাবন্দি থাকার পর পাকিস্তান থেকে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্সে এসে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে যখন বক্তৃতা করেছিলেন সেটা শুনে আমি কাঁদতে শুরু করি।
রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্থান
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জাতির জনক এই ভালোবাসা এবং সম্মান ধরে রাখতে পারেননি। তার করুন পরিণতি সেটাই প্রমাণ করে।
এই পোস্ট শেষ করছি এই বলে যে স্বাধীনতার ঘোষক কে ছিলেন এই আলোচনা বা বিতর্ক সম্পূর্ণ সময়ের অপচয় বলে মনে হয়। একটা বিশেষ গোষ্ঠী এটাকে পুঁজি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সত্যিকারের দেশ প্রেমিক এবং দেশের যারা মঙ্গল চায় তাদের মত আমিও চাই এই বিতর্কের অবসান হোক চিরতরে। এই বিতর্কে সাধারণ মানুষ কিভাবে উপকৃত হচ্ছে সেটা আমার মাথায় আসে না।
একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটাকে পুঁজি করে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করে দেশকে আরো পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ, আপনি এই বিতর্কে ঘি না ঢেলে দেশ কিভাবে সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে পারে সেটা নিয়ে কাজ করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো; দুর্নীতি রোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, যেখানে অসহায় দুর্বল জনগণও মনে করে তাদের উপর অন্যায় করে কেউ পার পেয়ে যাবে না, সে যত বড় প্রভাবশালী বা ধনী হোক না কেন।
রাজনৈতিক মত বিরোধ থাকলেও এই বিশাল কাজে আপনাকে দেশের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। এদের মধ্যে হাসিনা লীগ বাদে আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ এবং দেশ প্রেমিকরা; সেই সঙ্গে থাকবে জামাতে ইসলামীও।
তারেক রহমানকে আরও একটা কথা বলবো, আপনি নেতা না হয়ে স্টেটসম্যান হওয়ার চেষ্টা করেন।
(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)