যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে গোপন নথি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিতর্কে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত এক প্রসিকিউশন মেমোতে উঠে এসেছে, তিনি ব্যক্তিগত বিমানযাত্রায় যাত্রীদের সামনে একটি শ্রেণিবদ্ধ মানচিত্র প্রদর্শন করেছিলেন। একইসঙ্গে এমন একটি নথি নিজের কাছে রেখেছিলেন, যা কেবলমাত্র সরকারের শীর্ষ ছয় কর্মকর্তার জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।
তদন্তের প্রাথমিক চিত্র
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের দলের তৈরি এই নথিতে তদন্তের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ট্রাম্প সংবেদনশীল সরকারি নথি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং তা তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে দায়ের করা অভিযোগপত্রে ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের হাতে ছিল না, অথবা পরবর্তীতে তা প্রমাণ করার পরিকল্পনা ছিল।

বিমানযাত্রায় গোপন তথ্য প্রদর্শন
মেমোতে উল্লেখ রয়েছে, ২০২২ সালের জুনে নিউ জার্সিতে যাওয়ার পথে একটি ব্যক্তিগত ফ্লাইটে ট্রাম্প ওই শ্রেণিবদ্ধ মানচিত্র যাত্রীদের সামনে দেখান। ওই যাত্রীদের মধ্যে তার রাজনৈতিক সংগঠনের তৎকালীন প্রধানও ছিলেন, যিনি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তবে মানচিত্রটির বিষয়বস্তু কী ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল, ট্রাম্প একটি সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত গোপন পরিকল্পনা অন্যদের সামনে তুলে ধরেছিলেন এবং তা নিয়ে গর্ব করেছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি জটিলতা
ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এসব নথি নিজের কাছে রাখার অধিকারী ছিলেন। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ানোর আগেই খারিজ হয়ে যায়, কারণ বিচারক বিশেষ কৌঁসুলির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পরে ২০২৪ সালে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা নতুন করে এই মেমো প্রকাশের পর আরও তথ্য দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এতে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ও উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তদন্তের গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক
এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে তা গোপন রাখা হয়েছে, যাতে বিচারবহির্ভূতভাবে কারও ক্ষতি না হয়। তবে সাম্প্রতিক নথি প্রকাশের ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো কি আড়াল করা হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















