ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অজেয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই বিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হানার ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আসলেই কতটা কার্যকর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সরাসরি আঘাত, কেঁপে উঠল আস্থা
শনিবার রাতের দুই দফা হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ডিমোনা ও আরাদের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। বিস্ফোরণে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আগে থেকেই সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, তবুও এই সরাসরি আঘাত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিরোধে সাফল্য, তবুও ফাঁক রয়ে গেছে
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবুও তারা স্বীকার করেছে, কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপদ নয়। সামান্য একটি ত্রুটি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন ব্যর্থ হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে এই ব্যর্থতা ঘটতে পারে। প্রথমত, কোন ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় মুহূর্তের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রাডার সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তৃতীয়ত, পরিসংখ্যানগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে—সবকিছু ঠিক থাকলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁকি দিয়ে যেতে পারে।
ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা, সীমিত সম্পদ

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে এই ব্যয় এবং সরবরাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে প্রতিটি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।
ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, আগের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার কমে গেলেও তারা দ্রুত পুনর্গঠন করেছে। বর্তমানে তাদের কাছে আবারও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো শুধু সামরিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও ফেলছে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে, উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে ভবিষ্যৎ সংঘাতে প্রতিরক্ষা কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















