রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ঘিরে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। এই পরিস্থিতিতে মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলের ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বিকাল থেকে নগরীর স্টেশন বাবুপাড়া এলাকার ডিপোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ডিপোতে বিজিবি মোতায়েনের কারণ
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি প্রধান ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের মজুত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।

পাম্পে দীর্ঘ লাইন, দ্রুত শেষ জ্বালানি
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার প্রায় সব পাম্পই বন্ধ ছিল। শনিবার কিছু পাম্প সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি শুরু করলেও তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কোথাও মোটরসাইকেল প্রতি নির্দিষ্ট টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও লরি আসার পর শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না।

সরবরাহ কমে অচলাবস্থা
অনেক পাম্পে দুই দিন ধরেই পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু সীমিত পরিমাণে ডিজেল মিলছে। ডিপো থেকে স্বাভাবিকের অর্ধেক সরবরাহ দেওয়ায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা। এমনকি আগামী কয়েক দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পরিবহনে প্রভাব, ভোগান্তি বাড়ছে
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। দূরপাল্লার বাস চলাচল কমে গেছে প্রায় অর্ধেকে। অনেক গাড়ি চালক বাধ্য হয়ে যানবাহন বন্ধ রাখছেন। সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার কারণে দীর্ঘ রুটে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















