মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে ভারত। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন দূর-দূরান্তের দেশ থেকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র এবং বহু বছর পর ইরান থেকেও গ্যাস আমদানি শুরু করেছে ভারত।
উপসাগরীয় সরবরাহে ধাক্কা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে গ্যাস সরবরাহ কার্যত থেমে গেছে। এই সংকট সামাল দিতে ভারত দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ফলে ঐতিহ্যগত সরবরাহের বাইরে গিয়ে নতুন দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য জোরদার করছে দিল্লি।
দূর দেশ থেকে গ্যাস, বাড়ছে খরচ
ভারত এখন আর্জেন্টিনার মতো দূরবর্তী দেশ থেকেও গ্যাস আনছে, যেখানে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্যাস পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি সরবরাহ পেতেও সময় লাগছে বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন গ্যাস আমদানি করেছে ভারত, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ইরানের সঙ্গে নতুন অধ্যায়
২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করেছিল ভারত। তবে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় আবারও ইরান থেকে গ্যাস কেনা শুরু হয়েছে। একটি ইরানি ট্যাংকার ইতোমধ্যেই ভারতীয় বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যা এই নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উৎস
যুক্তরাষ্ট্র থেকেও গ্যাস সরবরাহ আসছে, তবে পরিবহন খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া কানাডা, নরওয়ে ও রাশিয়ার মতো দেশ থেকেও গ্যাস আমদানির সুযোগ রয়েছে, যদিও সেগুলোর খরচও বেশি। ফলে ভারত এখন একাধিক উৎসের ওপর নির্ভর করে সংকট মোকাবেলার কৌশল নিয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন কৌশল
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে, একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তবে দীর্ঘ দূরত্ব ও বাড়তি খরচ দেশটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















