ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির অন্তত ১২০টি জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা। এই হামলার ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ
তেহরান সিটি কাউন্সিলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক কমিটির প্রধান আহমদ আলাভি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনায় সরাসরি হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তত ১২০টি জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং এতে গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গোলেস্তান প্রাসাদ, সাদাবাদ প্রাসাদ, মার্বেল প্রাসাদ এবং তেইমুরতাশ হাউস, যা যুদ্ধ জাদুঘর নামেও পরিচিত। এসব স্থাপনা ইরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। এই চলমান সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহ্য রক্ষায় শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানের বহু প্রাচীন ও মূল্যবান স্থাপনা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















