মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের সুর তুলেছে ইরান। তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রস্তাব একপেশে এবং এতে ইরান বা অঞ্চলের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা এসেছে—চুক্তি না হলে আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
প্রস্তাব নিয়ে ইরানের আপত্তি
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এতে এমন কোনও ন্যূনতম শর্ত নেই, যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতেই তৈরি—এমন অভিযোগ তেহরানের।
তবে একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারা এখনো আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখছে, যদিও বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক’ বললেও জানিয়েছেন, তিনি নিশ্চিত নন যে তিনি এই মুহূর্তে কোনো সমঝোতায় যেতে চান কি না। বরং তিনি ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—তা না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট, আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশলও চালু রেখেছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি সদিচ্ছা দেখাতে চায়, তবে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়াই হবে বড় পদক্ষেপ।
ইরান জানিয়েছে, ‘অবৈরী’ জাহাজগুলো নির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে চলাচল করতে পারবে। ইতিমধ্যে কিছু দেশের জাহাজ পারাপারের অনুমতি পাওয়ায় আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি
সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। ইরান একাধিক দফায় ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তেল আবিব ও হাইফাও রয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও হামলা হয়েছে আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। বিভিন্ন শহরে বোমা হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
আলোচনার পথ কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের মতো শর্ত রয়েছে। এসব শর্তকে ‘অত্যধিক কঠোর’ বলে মনে করছে তেহরান।
ইরান পাল্টা হিসেবে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার গ্যারান্টি চাইছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই দূরে যে দ্রুত কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিতে প্রভাব
যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠে গেছে, শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। প্রযুক্তি, পর্যটন ও খুচরা ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকট ও ব্যয়ের চাপের মুখে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















