অঞ্চলজুড়ে পরমাণু শক্তির নতুন আগ্রহ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এবং তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন করে জাগিয়ে তুলছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি একসঙ্গে মিলে অঞ্চলটিতে এক অভূতপূর্ব চাপ তৈরি করেছে। মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পাঁচ শতাধিক সক্রিয় ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং আরও বেশি নির্মাণাধীন বা পরিকল্পনায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ এআই ডেটা সেন্টার এক লাখ গৃহস্থালির সমান বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ভিয়েতনাম ও রাশিয়া এই সপ্তাহে একটি পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু করতে তৎপর, কারণ দেশের জ্বালানি ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে জ্বালানি রেশনিং চালু করতে হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট অঞ্চলের দেশগুলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও বিকল্প পথের আলোচনা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে সংকটকালে পারমাণবিক শক্তি আকর্ষণীয় মনে হলেও এর বাস্তব ঝুঁকি ও দীর্ঘ উন্নয়নকাল উপেক্ষা করা উচিত নয়। জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্সের গবেষক ব্রিজেট উডম্যান বলেছেন, জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে দূরের মনে হলে পারমাণবিক শক্তি বায়ু ও সৌরশক্তির চেয়ে বেশি লোভনীয় দেখায়, যদিও এই ধারণা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করতে চাওয়া দেশগুলোকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারে যে ধাক্কা লেগেছে তা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১৬ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে, যা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের দ্বিগুণ। বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের পঞ্চমাংশও বিঘ্নিত হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইয়েন সাম্প্রতিক একটি পারমাণবিক শক্তি সম্মেলনে বলেছেন, এই সংকট অন্য অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতার বিপদকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আফ্রিকার আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















