ইউনিট ওয়ানের চালু হওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরকে হঠাৎ করেই জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে নিয়ে এসেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর দিয়ে গঠিত এই প্রকল্পের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট-১-এর জন্য ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি ভরার কাজ এপ্রিলের শুরুতে শুরু হবে। এরপর ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা ও গ্রিড সংযোগ মে-জুনে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা পরে পূর্ণ ক্ষমতায় ১,২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। ইউনিট-২ আসবে ২০২৭ সালে।
ইউনিট-১-এর কোল্ড রান ও হট রান পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই হাজারের বেশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে মাত্র ১৫০টি ছোটখাটো কাজ এখনো বাকি, যেগুলো মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ সম্পন্ন করে কেন্দ্রের কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রশংসা করেছে। ২০২৫ সালের জুনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু হয়েছে, যা কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানোর পথ তৈরি করেছে। রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ চালু করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
একটি প্রকল্প, একটি জাতীয় প্রতিশ্রুতি
রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান ৬৬ শতাংশ, যার এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করা হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ কাটা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রূপপুরের ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা জাতীয় চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে পারবে। প্রকল্পটির খরচ প্রাথমিকভাবে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সেটি প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে বলে একটি প্রস্তাব পর্যালোচনাধীন আছে। রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিলতা দেখা দিলেও বাংলাদেশ চীনা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার রোসাটমের সঙ্গে ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। এই আন্তঃসরকার ধারাবাহিকতাকে বিশেষজ্ঞরা রূপপুরের প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ জাতীয় প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















