[৮১ মিলিয়ন ডলারের সাইবার ডাকাতি]
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটে গিয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার ব্যাংক ডাকাতি। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে সুইফট পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা চালায়। ফেডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৩০টি অনুরোধ আটকে দিলেও পাঁচটি অনুরোধ পাশ হয়ে যায় এবং ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন বা আরসিবিসির হিসাবে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে লোপাট হয়ে যায়। বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু বানান ভুলের কারণে সেটি আটকে যায়। এখন পর্যন্ত ফিলিপাইন থেকে মাত্র প্রায় ১৪.৬৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়া গেছে।
এই মামলায় ১০ বছর ধরে তদন্ত করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা সিআইডি। দৈনিক তারকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন জানিয়েছেন, তদন্তের শেষ পর্যায়ে এসে সাত দেশে ৬৫ থেকে ৭০ জন সন্দেহভাজন শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১০ জন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন, বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা। বিদেশি সন্দেহভাজনরা মূলত ফিলিপাইন, চীন, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত থেকে। মার্কিন তদন্তকারীরা উত্তর কোরিয়ার সরকার-সমর্থিত হ্যাকিং গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপকে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
[৮৬ বারের বেশি স্থগিতের পর এখন চার্জশিট আসছে]
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এখন পর্যন্ত ৮৬ বারেরও বেশি পিছিয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ হলো চীন ও শ্রীলঙ্কার কাছে পাঠানো মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআরের জবাব না আসা। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন এফবিআইয়ের একটি প্রতিবেদন এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য তদন্তে বড় গতি এনেছে। চার্জশিটে এফবিআইয়ের পূর্ণ প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হবে যা বিদেশি সন্দেহভাজনদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। গত ১০ বছরে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চারবার পরিবর্তন হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এমএলএআর পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল, কারণ অনেক সময় সঠিক কর্তৃপক্ষকে সঠিক ভাষায় আবেদন পাঠানো হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে চার্জশিট দাখিল আসন্ন বলে জানানো হয়েছে, যা এই দীর্ঘ ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















