মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা বাড়ালেও তেলের দাম কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি
শুক্রবার বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ১১১ ডলারে পৌঁছায়। আগের দিনই এটি প্রায় ৫.৭ শতাংশ বেড়ে ১০৮.০১ ডলারে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা বৃহস্পতিবার ছিল ৯৪.৪৮ ডলার।
বিশ্লেষকরা বিশেষভাবে নজর রাখছেন হরমুজ প্রণালীর ওপর, যা ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বে মোট তেলের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও বাজার প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার তেলের দাম সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন দেখার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অগ্রগতি হচ্ছে, যদিও ইরানের পক্ষ থেকে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে।
শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা
যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার লেনদেন শুরুর পরই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ কমে যায়। সপ্তাহজুড়ে সূচকটি প্রায় ১ শতাংশ পতনের দিকে এগোচ্ছে।
এটি টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো পতনের পথে রয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব বন্ডের সুদের হারে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আবাসন খাতের ব্যয় ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইউরোপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। প্যান-ইউরোপীয় সূচক স্টক্স ৬০০ এক শতাংশের বেশি কমেছে এবং লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ নেমেছে।
এশিয়ার বাজারেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পতন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের বাজার প্রায় ০.৫ শতাংশ কমেছে, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ০.৪ শতাংশ। তবে হংকং ও চীনের বাজার সামান্য বেড়েছে।
জ্বালানি খাতে ভিন্ন চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম শুক্রবার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে, গড়ে প্রতি গ্যালন ৩.৯৮ ডলারের কাছাকাছি। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম দিন যখন দাম বাড়েনি। তবে এই সময়ে চালকদের জন্য জ্বালানির খরচ মোট ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। শুক্রবার তা সামান্য বেড়ে ৫.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করছে, যার প্রভাব এখনো কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















