মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা নির্ভরতা। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানের পর ইরানের পাল্টা হামলা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো অঞ্চলই নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করছে।
ইরানের হামলায় কাঁপছে উপসাগর
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও কিংবা অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর কারণেই এই অঞ্চল সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ব্যয়বহুল প্রতিরোধক অস্ত্রের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে সৌদি আরব ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকেছে, আর ইতালির কাছ থেকেও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার ওপর একক নির্ভরতা আর যথেষ্ট মনে করছে না দেশগুলো।
নিরাপত্তা জোট নিয়ে বাড়ছে সংশয়
উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে নিশ্চিত বলে কিছু নেই। এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা নয়, বরং অনিশ্চয়তাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা
সংঘাতের প্রভাব শুধু নিরাপত্তায় নয়, অর্থনীতিতেও মারাত্মক আঘাত হেনেছে। কাতার ও আমিরাতের মতো বড় বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা অঞ্চল ছাড়ছে দ্রুত।
জ্বালানি খাত, যা এই দেশগুলোর মূল আয়ের উৎস, সেটিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইরানের হামলায় তেল শোধনাগার ও গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কিছু দেশ। গুরুত্বপূর্ণ জলপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার ফলে তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত বাধাগ্রস্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই যুদ্ধ মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা কমে গেছে। তবে বাস্তবতা বলছে, এই সংঘাতই উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে সমালোচকরা বলছেন, এই যুদ্ধের ফলে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে দোদুল্যমানতা
কিছু দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও, অনেকেই বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁজছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি ও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তাদের নতুন বাস্তবতায় ঠেলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মার্কিন নিরাপত্তা কি যথেষ্ট, নাকি নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার সময় এসে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















