০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
কেপপ ও কে-ড্রামার পর এবার বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলছে কে-গেমস, নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়ার গেম বিপ্লব ‘সাসের মৃত্যু’ নিয়ে সতর্কবার্তা—এআই যুগে বদলাতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন উন্নত বাজারের অনিশ্চয়তা, উদীয়মান অর্থনীতির মতো আচরণ—বিনিয়োগকারীদের নতুন দুশ্চিন্তা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটে এশিয়ার মুদ্রা চাপে, বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভিড় বাড়ায় নতুন বাজারে ঝুঁকছে চীনা মিল্ক টি ব্র্যান্ড কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান শেষ হতে পারে, তবুও চলছেই বিমান হামলা নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির গ্রেপ্তার: জেন-জি বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত জোরদার জাভার উপকূল ভাঙনে বিপর্যয়, ৮০ বিলিয়ন ডলারের সমুদ্রপ্রাচীর পরিকল্পনায় ইন্দোনেশিয়া কে-পপ ডেমন হান্টার্স সিক্যুয়েল নিশ্চিত: পরিচালক ও নেটফ্লিক্স আবারও একসঙ্গে  নাসার মঙ্গল রোভার এআই দিয়ে প্রথমবার স্বায়ত্তশাসিত অভিযান সম্পন্ন করল

 ইরান যুদ্ধ নিয়ে জি৭ বৈঠক: রুবিও মিত্রদের একজোট করতে প্যারিসে

পশ্চিমা জোটে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ

বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত গণতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২৭ মার্চ ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি ঐতিহাসিক অ্যাবেতে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠকে সহযোগী দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা এই যুদ্ধে মার্কিন অবস্থানের প্রতি ক্রমেই সংশয়ী হয়ে উঠছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে মার্কিন নীতির সম্পূর্ণ অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা জোটে চাপা উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় মিত্ররা কূটনৈতিক ও সামরিক দুই ক্ষেত্রেই আরও সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়াক। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো আগেই সতর্ক করেছিলেন যে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতা ইউরোপকে একটি অসম্ভব পছন্দের মুখে ঠেলে দিতে পারে। প্যারিস বৈঠকে সেই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

Rubio tries to sell Iran war to skeptical G7 allies in France | AP News

রুবিও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ছিল গঠনমূলক। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, মতভেদ এখনও দূর হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচল বাধার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত হানছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলো একদিকে মার্কিন চাপ, অন্যদিকে নিজেদের জনগণের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক পশ্চিমা ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল, যেখানে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।

জি৭ বৈঠকের পটভূমিতে মার্কিন কংগ্রেসেও চাপ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের নতুন সময়সীমা ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সময়সীমার আগে মিত্রদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয় কিনা, তার ওপর নির্ভর করছে সংকটের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

Europeans fail to move Rubio at G7 meeting over Iran war, Russian  involvement | Courthouse News Service

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপপ ও কে-ড্রামার পর এবার বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলছে কে-গেমস, নতুন বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়ার গেম বিপ্লব

 ইরান যুদ্ধ নিয়ে জি৭ বৈঠক: রুবিও মিত্রদের একজোট করতে প্যারিসে

০১:০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পশ্চিমা জোটে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ

বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত গণতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২৭ মার্চ ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি ঐতিহাসিক অ্যাবেতে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠকে সহযোগী দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা এই যুদ্ধে মার্কিন অবস্থানের প্রতি ক্রমেই সংশয়ী হয়ে উঠছে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে মার্কিন নীতির সম্পূর্ণ অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা জোটে চাপা উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় মিত্ররা কূটনৈতিক ও সামরিক দুই ক্ষেত্রেই আরও সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়াক। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো আগেই সতর্ক করেছিলেন যে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতা ইউরোপকে একটি অসম্ভব পছন্দের মুখে ঠেলে দিতে পারে। প্যারিস বৈঠকে সেই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

Rubio tries to sell Iran war to skeptical G7 allies in France | AP News

রুবিও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ছিল গঠনমূলক। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, মতভেদ এখনও দূর হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচল বাধার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত হানছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলো একদিকে মার্কিন চাপ, অন্যদিকে নিজেদের জনগণের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক পশ্চিমা ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল, যেখানে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।

জি৭ বৈঠকের পটভূমিতে মার্কিন কংগ্রেসেও চাপ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের নতুন সময়সীমা ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সময়সীমার আগে মিত্রদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয় কিনা, তার ওপর নির্ভর করছে সংকটের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

Europeans fail to move Rubio at G7 meeting over Iran war, Russian  involvement | Courthouse News Service